ইংল্যান্ডের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় শয্যা সংকট নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার রোগী হাসপাতালের করিডোর বা চিকিৎসার জন্য অনুপযুক্ত স্থানে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে রোগীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন।
করিডোরে চিকিৎসার উদ্বেগজনক চিত্র
প্রথমবারের মতো প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ২৪১ জন রোগী জরুরি বিভাগে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে করিডোর বা চিকিৎসার জন্য অনুপযুক্ত পরিবেশে সেবা পেয়েছেন। এছাড়া আরও ৬৯৯ জন রোগী প্রতিদিন অন্যান্য অনুপযুক্ত স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এসব স্থানের মধ্যে হাসপাতালের করিডোর ছাড়াও সংরক্ষণ কক্ষ, গাড়ি পার্কিং এলাকা কিংবা শৌচাগারের মতো জায়গাও রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিবেশ রোগীদের জন্য শুধু অস্বস্তিকরই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণও।

কীভাবে নির্ধারণ করা হয় অনুপযুক্ত পরিবেশ?
কোনো চিকিৎসা পরিবেশকে অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় যখন সেখানে রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করা যায় না, পর্যাপ্ত খাবার ও পানির সুবিধা থাকে না, বিশ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় নীরবতা থাকে না অথবা আলো নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সীমিত থাকে।
এই মানদণ্ড অনুযায়ী অনেক রোগী এমন পরিবেশে চিকিৎসা পাচ্ছেন যা স্বাভাবিক হাসপাতাল সেবার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
‘জাতীয় কেলেঙ্কারি’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা
জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একটি শীর্ষ সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিকে “জাতীয় কেলেঙ্কারি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, করিডোরে চিকিৎসা এখন এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, রোগীদের মর্যাদাহানি ঘটানোর পাশাপাশি এই পদ্ধতি চিকিৎসা নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। তারা মনে করেন, সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তবে প্রকাশিত তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও কিছু প্রশ্ন উঠেছে। অনেক চিকিৎসকের ধারণা, বাস্তব পরিস্থিতি পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি গুরুতর হতে পারে।
অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে
নতুন তথ্য আরও দেখিয়েছে, হাসপাতালের অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। কয়েক মাসের উন্নতির পর চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৭২ লাখের বেশি হয়েছে।
এছাড়া নিয়মিত চিকিৎসা শুরু করার জন্য এক বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। এটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করিডোরে চিকিৎসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমস্যার প্রকৃত চিত্র সামনে আনতেই প্রথমবারের মতো এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের আশা, তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সংকটে থাকা হাসপাতালগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। তারপরও করিডোরে চিকিৎসার মতো পরিস্থিতি পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















