০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন, টিউলিপের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ, সাবেক মন্ত্রীর বিদেশি সম্পদ জব্দ—আদালতপাড়ায় তুমুল আলোড়ন জুলাই-আগস্ট হত্যাযজ্ঞ মামলা: সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন সুন্দরবনে ১০ দিনেও উদ্ধার নয় ২০ জেলে, দস্যু আতঙ্কে উপকূল স্থবির দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কেঁপে উঠল মাটি বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যুতে তীব্র বিস্ফোরণ, ‘মব কালচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা’ বললেন ডা. শফিকুর রহমান কথা নয়, কাজে অগ্রাধিকার—বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের প্রথম বার্তা প্যালেস্টাইনের সরে দাঁড়ানোয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের লড়াই জোরালো ইবে হেনস্তা কাণ্ডে সমঝোতা, হুমকি ও অদ্ভুত পার্সেল পাঠানোর মামলার অবসান ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি ও টিকে থাকার কৌশল: অন্তরালের ক্ষমতার লড়াই তিন মাসেও মিলল না প্রণোদনা, ধস নামা দামে দিশেহারা আলুচাষি

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েনের মাঝেই চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইরান

ভূমিকা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইরান। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন সূত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করার পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকে নতুন করে নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চুক্তির অগ্রগতি ও ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি প্রায় সম্পন্ন। তবে সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব নিচ দিয়ে দ্রুতগতিতে উড়ে গিয়ে জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে ইরানের আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।

Iran nears deal to purchase supersonic anti-ship missiles from China

আলোচনার পটভূমি ও গতি বৃদ্ধি

প্রায় দুই বছর আগে চীনের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। ইরান সরকারের তিনজন অবহিত কর্মকর্তা এবং তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত গ্রীষ্মে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসউদ ওরায়িসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। ওরায়ির এই সফরের খবর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, ইরান যদি সুপারসনিক জাহাজ আক্রমণ সক্ষমতা অর্জন করে, তবে সেটি হবে সম্পূর্ণ খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। তার ভাষায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।

চুক্তির অনিশ্চয়তা

সম্ভাব্য চুক্তিতে কতসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, ইরান কত অর্থ দিতে রাজি হয়েছে, কিংবা বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে চীন শেষ পর্যন্ত চুক্তি কার্যকর করবে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Iran's foreign ministry summons European ambassadors - Mehr News Agency

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের মিত্রদের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য এ সময় উপযুক্ত।

প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা অবগত নয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। হোয়াইট হাউসও ইরান-চীন ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও পারমাণবিক অচলাবস্থা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান হয় চুক্তিতে আসবে, নতুবা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ১০ দিনের সময়সীমা দেন, অন্যথায় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হবে, এবং সে লক্ষ্যে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উচ্চঝুঁকিপূর্ণ আলোচনায় রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও খোলা রাখছে ওয়াশিংটন।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় চীন - 24 Live Newspaper - Bangla

জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব

চীনের কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তর হলে তা হবে ইরানে স্থানান্তরিত সবচেয়ে উন্নত সামরিক সরঞ্জামের একটি। এটি ২০০৬ সালে আরোপিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হতে পারে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয়েছিল, কিন্তু গত সেপ্টেম্বর তা পুনর্বহাল করা হয়।

সম্ভাব্য এই চুক্তি চীন-ইরান সামরিক সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয়, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন অঞ্চলে চীন ক্রমেই নিজের উপস্থিতি জোরদার করছে।

চীন, ইরান ও রাশিয়া নিয়মিত যৌথ নৌমহড়া চালায়। গত বছর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে রাসায়নিক উপাদান সরবরাহের অভিযোগে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে চীনা নেতা শি জিনপিং বলেন, চীন ইরানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সমর্থন জানায়। ১৮ অক্টোবর রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে যৌথ চিঠিতে চীন জানায়, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ত্রুটিপূর্ণ।

একজন অবহিত কর্মকর্তা বলেন, ইরান এখন একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

America's Military Buildup Around Iran: What We Know and What It Means -  Middle East Forum

মার্কিন নৌবহর মোতায়েন

চুক্তির এই অগ্রগতির সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঘাতসীমার ভেতরে একটি বড় নৌবহর জড়ো করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং তার সহায়ক জাহাজও ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দুটি রণতরীতে মিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও প্রায় ১৫০টি বিমান বহনের সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্লেষক সিত্রিনোভিচ বলেন, চীন ইরানে পশ্চিমাপন্থী সরকার দেখতে চায় না। কারণ তা তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে। তারা চায় বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকুক।

ইরানের সামরিক সক্ষমতার সম্ভাব্য পরিবর্তন

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক পিটার ওয়েজেম্যান বলেন, গত বছরের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পর ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে সিএম-৩০২ যুক্ত হলে তা বড় ধরনের উন্নতি হবে।

What are Iran's military capabilities - and how much of a threat is it? |  World News | Sky News

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের সেরা জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে বাজারজাত করে, যা বিমানবাহী রণতরী বা ডেস্ট্রয়ার ডুবিয়ে দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। এই অস্ত্র জাহাজ, বিমান বা স্থলভিত্তিক মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং স্থল লক্ষ্যবস্তুও ধ্বংস করতে পারে।

এছাড়া ইরান চীনের কাছ থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক প্রতিরোধী অস্ত্র ও উপগ্রহবিধ্বংসী অস্ত্র কেনার বিষয়েও আলোচনা করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে বড় আকারের অস্ত্র সরবরাহ কমে গেলেও ১৯৮০-এর দশকে চীন ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত উপাদান সরবরাহের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহের অভিযোগ প্রকাশ্যে তোলেননি।

এই সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন, টিউলিপের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ, সাবেক মন্ত্রীর বিদেশি সম্পদ জব্দ—আদালতপাড়ায় তুমুল আলোড়ন

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েনের মাঝেই চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইরান

০৩:২১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূমিকা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইরান। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন সূত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করার পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকে নতুন করে নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চুক্তির অগ্রগতি ও ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি প্রায় সম্পন্ন। তবে সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব নিচ দিয়ে দ্রুতগতিতে উড়ে গিয়ে জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে ইরানের আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।

Iran nears deal to purchase supersonic anti-ship missiles from China

আলোচনার পটভূমি ও গতি বৃদ্ধি

প্রায় দুই বছর আগে চীনের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। ইরান সরকারের তিনজন অবহিত কর্মকর্তা এবং তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত গ্রীষ্মে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসউদ ওরায়িসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। ওরায়ির এই সফরের খবর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, ইরান যদি সুপারসনিক জাহাজ আক্রমণ সক্ষমতা অর্জন করে, তবে সেটি হবে সম্পূর্ণ খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। তার ভাষায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।

চুক্তির অনিশ্চয়তা

সম্ভাব্য চুক্তিতে কতসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, ইরান কত অর্থ দিতে রাজি হয়েছে, কিংবা বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে চীন শেষ পর্যন্ত চুক্তি কার্যকর করবে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Iran's foreign ministry summons European ambassadors - Mehr News Agency

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের মিত্রদের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য এ সময় উপযুক্ত।

প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা অবগত নয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। হোয়াইট হাউসও ইরান-চীন ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও পারমাণবিক অচলাবস্থা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান হয় চুক্তিতে আসবে, নতুবা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ১০ দিনের সময়সীমা দেন, অন্যথায় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হবে, এবং সে লক্ষ্যে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উচ্চঝুঁকিপূর্ণ আলোচনায় রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও খোলা রাখছে ওয়াশিংটন।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় চীন - 24 Live Newspaper - Bangla

জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব

চীনের কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তর হলে তা হবে ইরানে স্থানান্তরিত সবচেয়ে উন্নত সামরিক সরঞ্জামের একটি। এটি ২০০৬ সালে আরোপিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হতে পারে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয়েছিল, কিন্তু গত সেপ্টেম্বর তা পুনর্বহাল করা হয়।

সম্ভাব্য এই চুক্তি চীন-ইরান সামরিক সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয়, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন অঞ্চলে চীন ক্রমেই নিজের উপস্থিতি জোরদার করছে।

চীন, ইরান ও রাশিয়া নিয়মিত যৌথ নৌমহড়া চালায়। গত বছর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে রাসায়নিক উপাদান সরবরাহের অভিযোগে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে চীনা নেতা শি জিনপিং বলেন, চীন ইরানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সমর্থন জানায়। ১৮ অক্টোবর রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে যৌথ চিঠিতে চীন জানায়, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ত্রুটিপূর্ণ।

একজন অবহিত কর্মকর্তা বলেন, ইরান এখন একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

America's Military Buildup Around Iran: What We Know and What It Means -  Middle East Forum

মার্কিন নৌবহর মোতায়েন

চুক্তির এই অগ্রগতির সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঘাতসীমার ভেতরে একটি বড় নৌবহর জড়ো করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং তার সহায়ক জাহাজও ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দুটি রণতরীতে মিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও প্রায় ১৫০টি বিমান বহনের সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্লেষক সিত্রিনোভিচ বলেন, চীন ইরানে পশ্চিমাপন্থী সরকার দেখতে চায় না। কারণ তা তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে। তারা চায় বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকুক।

ইরানের সামরিক সক্ষমতার সম্ভাব্য পরিবর্তন

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক পিটার ওয়েজেম্যান বলেন, গত বছরের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পর ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে সিএম-৩০২ যুক্ত হলে তা বড় ধরনের উন্নতি হবে।

What are Iran's military capabilities - and how much of a threat is it? |  World News | Sky News

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের সেরা জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে বাজারজাত করে, যা বিমানবাহী রণতরী বা ডেস্ট্রয়ার ডুবিয়ে দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। এই অস্ত্র জাহাজ, বিমান বা স্থলভিত্তিক মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং স্থল লক্ষ্যবস্তুও ধ্বংস করতে পারে।

এছাড়া ইরান চীনের কাছ থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক প্রতিরোধী অস্ত্র ও উপগ্রহবিধ্বংসী অস্ত্র কেনার বিষয়েও আলোচনা করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে বড় আকারের অস্ত্র সরবরাহ কমে গেলেও ১৯৮০-এর দশকে চীন ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত উপাদান সরবরাহের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহের অভিযোগ প্রকাশ্যে তোলেননি।

এই সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।