ওয়াশিংটন থেকে বড় নীতিগত বার্তা এলো। যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, লাইসেন্স নিয়ে কোম্পানিগুলো এখন কিউবার বেসরকারি খাতে ভেনেজুয়েলার তেল পুনরায় বিক্রি করতে পারবে। দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটে থাকা দ্বীপদেশটির জন্য এটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন এ সিদ্ধান্ত
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে কিউবায় তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro গ্রেপ্তারের পর এই পরিবর্তন আসে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও বিমান চলাচলে জ্বালানি ঘাটতি তীব্র আকার নেয়।
গত পঁচিশ বছরের বেশি সময় ধরে Venezuela ছিল Cubaর প্রধান তেল সরবরাহকারী। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার বিনিময়ভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে এই সরবরাহ চলত। বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসা Mexicoও সাম্প্রতিক সময়ে কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ রেখেছে।
কোন লেনদেনের অনুমতি
মার্কিন অর্থ দপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, সম্ভাব্য সব লেনদেন কিউবার জনগণ ও বেসরকারি খাতকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে হতে হবে। কিউবার সামরিক বাহিনী বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেন এই অনুমতির আওতায় পড়বে না।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির বড় অংশ পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ভারতে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো হচ্ছে, পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রাখা হয়েছে পুনর্বিক্রির জন্য।
ট্রাম্প ও রুবিওর বক্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার মিত্র দেশগুলোকে এখন বাজারদরে তেলের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে চীন ও কিউবার নামও রয়েছে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio বলেছেন, কিউবার মানবিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ দায়ী নয়; বরং দেশটির সরকারি নীতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তার ভাষ্য, কিউবার জনগণ যদি কষ্টে থাকে, তবে তার কারণ তাদের নিজস্ব শাসনব্যবস্থা।
বাস্তবতা কতটা বদলাবে
নতুন নীতির পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে, কিউবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারদরে তেল কিনতে সক্ষম হবে কি না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি নগদ বাজার থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হিমশিম খাচ্ছে।
এই মাসেই কিউবা সরকার ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জ্বালানি আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানায়। তবে জ্বালানি বিতরণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে।

আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজ
মার্কিন চাপের কারণে ডিসেম্বরের পর থেকে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি PDVSA পরিচালিত বন্দর থেকে তোলা এক জাহাজ এখনো ভেনেজুয়েলার জলসীমায় নোঙর করে আছে, অনুমতির অপেক্ষায়।
ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া জানুয়ারির পর কোনো তেলবাহী কার্গো ভেনেজুয়েলা ছাড়েনি। ফলে কিউবার জ্বালানি সংকট আরও গভীর হয়েছে।

মানবিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবহন ও শিল্প খাতে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে বেসরকারি খাত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়বে।
এই সিদ্ধান্তে কিউবার অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা হবে, তা নির্ভর করছে বাস্তবে কত দ্রুত এবং কী শর্তে তেল পৌঁছায় তার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















