ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফরে ইসরায়েল পৌঁছেছেন, লক্ষ্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা। বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে দিল্লির বার্তা। তবে দেশে এই সফর ঘিরে সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে।
কৌশলগত অংশীদারিত্বে জোর
রওনা হওয়ার আগে বিবৃতিতে মোদি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেবেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ নির্ধারিত রয়েছে।
১৯৯২ সালে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর প্রতিরক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭ সালে মোদির ইসরায়েল সফর এবং পরের বছর নেতানিয়াহুর ভারত সফর সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
)
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা
২৩ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে ভারত–ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ ভূমধ্যসাগরীয় হাইফা বন্দর পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনাকালে ইসরায়েলি সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্য রক্ষার কূটনীতি
ভারত একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশ ও তেহরানের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়ানোর কৌশলের অংশ।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল। রেল, বন্দর, বিদ্যুৎ, তথ্য নেটওয়ার্ক ও পাইপলাইন সংযোগের এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ গাজায় সংঘাতের পর থমকে যায়। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক পরিবেশ বদলে দেয়।
)
দেশে সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপ
বিরোধী শিবিরের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, নেসেটে ভাষণের সময় গাজায় হাজারো নিরীহ মানুষের প্রাণহানির প্রসঙ্গ তোলা উচিত। ভারতের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের দেশে প্রায় ২২ কোটি মুসলিম নাগরিক রয়েছেন। ফলে পশ্চিম এশিয়া নীতি নিয়ে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যও বজায় রাখতে হচ্ছে।
এই সফর তাই শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণেরও বার্তা বহন করছে। প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালেও মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা—দিল্লির জন্য সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















