০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
লিবিয়া থেকে আরও ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত কক্সবাজারে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ, আগুনে দগ্ধ ১৬, পুড়ল ২০ পর্যটক জিপ কৃষিঋণে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফে মন্ত্রিসভার অনুমোদন তৈরি পোশাক খাতে ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা দ্রুত ছাড়ের দাবি বিজিএমইএর ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইলেন কারাবন্দি পিটিআই নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ৫ লাখ ব্রিটিশ রাজনীতিতে ভূমিকম্প: পিটার ম্যান্ডেলসনের গ্রেপ্তার, চাপে কিয়ার স্টারমার স্মৃতি, ভ্রমণ ও আখ্যানের জাদুকর সিস নোটেবুম আর নেই কাইজা সারিয়াহোর শেষ অপেরা ‘ইনোসেন্স’: স্কুল গুলির বেদনায় সুরে গাঁথা বিশ্বমানের সৃষ্টি

সম্ভলের শাহী জামে মসজিদ ঘিরে উত্তেজনা: পরিচয় সংকটে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এক শহর

ভারতের সম্ভল শহর একসময় পরিচিত ছিল তার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আর সহাবস্থানের জন্য। কিন্তু শাহী জামে মসজিদ ঘিরে আইনি লড়াই ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সেই শহরের চেহারা দ্রুত বদলে গেছে। স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয় এখন ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, আর প্রকাশ্য ধর্মীয় চর্চা ভয়ে সঙ্কুচিত।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আদালতের নির্দেশে মসজিদ প্রাঙ্গণে জরিপ শুরুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হিন্দু পক্ষের দাবি ছিল, মসজিদটি প্রাচীন একটি মন্দিরের স্থানে নির্মিত। জরিপ দল দ্বিতীয় দফায় পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলি চালায়। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অনেকে।

নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেছে, পুলিশি গুলিতেই প্রাণহানি ঘটেছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সহিংসতা ছিল পরিকল্পিত।

আইনি লড়াই ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক

মসজিদ নিয়ে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন। তিনি দাবি করেন, এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লড়াই। কিন্তু মুসলিমদের আশঙ্কা, দ্রুত জরিপ এবং রাতারাতি প্রশাসনিক তৎপরতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।

সহিংসতার পর হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়। বহু পরিবার জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। নিহত কিশোর আয়ানের মা নাফিসা বলেন, ঘৃণার রাজনীতিই তার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তৎকালীন পুলিশ প্রধান অনুজ চৌধুরী প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেন। মসজিদের পাশে নতুন থানা ভবন নির্মাণ, নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে তার সক্রিয় উপস্থিতি শহরে নতুন বার্তা দেয়। তিনি দাবি করেন, কেবল আইন প্রয়োগই তার দায়িত্ব ছিল।

এদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ–এর নেতৃত্বে রাজ্য রাজনীতিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। উন্নয়ন ও কঠোর প্রশাসনিক ভাবমূর্তির পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ্য প্রদর্শন এখন স্বাভাবিক চিত্র হয়ে উঠেছে।

বদলে যাওয়া শহরের বাস্তবতা

প্রায় তিন লাখ মানুষের এই শহরের তিন-চতুর্থাংশই মুসলিম। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে যে ধর্মীয় সহাবস্থান ছিল, তা এখন সন্দেহ ও নীরবতায় ঢেকে গেছে। অনেকে বলছেন, শিক্ষা ও জীবিকায়ও এর প্রভাব পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভলের ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি শহরের গল্প নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী থেকে একপক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে—এমন ধারণাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

 

লিবিয়া থেকে আরও ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

সম্ভলের শাহী জামে মসজিদ ঘিরে উত্তেজনা: পরিচয় সংকটে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এক শহর

০৫:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের সম্ভল শহর একসময় পরিচিত ছিল তার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আর সহাবস্থানের জন্য। কিন্তু শাহী জামে মসজিদ ঘিরে আইনি লড়াই ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সেই শহরের চেহারা দ্রুত বদলে গেছে। স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয় এখন ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, আর প্রকাশ্য ধর্মীয় চর্চা ভয়ে সঙ্কুচিত।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আদালতের নির্দেশে মসজিদ প্রাঙ্গণে জরিপ শুরুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হিন্দু পক্ষের দাবি ছিল, মসজিদটি প্রাচীন একটি মন্দিরের স্থানে নির্মিত। জরিপ দল দ্বিতীয় দফায় পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলি চালায়। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অনেকে।

নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেছে, পুলিশি গুলিতেই প্রাণহানি ঘটেছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সহিংসতা ছিল পরিকল্পিত।

আইনি লড়াই ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক

মসজিদ নিয়ে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন। তিনি দাবি করেন, এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লড়াই। কিন্তু মুসলিমদের আশঙ্কা, দ্রুত জরিপ এবং রাতারাতি প্রশাসনিক তৎপরতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।

সহিংসতার পর হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়। বহু পরিবার জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। নিহত কিশোর আয়ানের মা নাফিসা বলেন, ঘৃণার রাজনীতিই তার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তৎকালীন পুলিশ প্রধান অনুজ চৌধুরী প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেন। মসজিদের পাশে নতুন থানা ভবন নির্মাণ, নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে তার সক্রিয় উপস্থিতি শহরে নতুন বার্তা দেয়। তিনি দাবি করেন, কেবল আইন প্রয়োগই তার দায়িত্ব ছিল।

এদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ–এর নেতৃত্বে রাজ্য রাজনীতিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। উন্নয়ন ও কঠোর প্রশাসনিক ভাবমূর্তির পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ্য প্রদর্শন এখন স্বাভাবিক চিত্র হয়ে উঠেছে।

বদলে যাওয়া শহরের বাস্তবতা

প্রায় তিন লাখ মানুষের এই শহরের তিন-চতুর্থাংশই মুসলিম। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে যে ধর্মীয় সহাবস্থান ছিল, তা এখন সন্দেহ ও নীরবতায় ঢেকে গেছে। অনেকে বলছেন, শিক্ষা ও জীবিকায়ও এর প্রভাব পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভলের ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি শহরের গল্প নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী থেকে একপক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে—এমন ধারণাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।