দেশের বাজারে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে আমদানিকারকদের নয়, খুচরা বিক্রেতাদের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আমদানিকারকরা দাম বাড়াননি, বাজার পর্যায়ে খুচরা ব্যবসায়ীরাই মূল্য বৃদ্ধি করেছেন।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
খুচরা পর্যায়ে নজরদারি জোরদার
মন্ত্রী বলেন, বাজারে যাতে খুচরা পর্যায়ে কারসাজি না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে। বৈঠকে মূল্য নির্ধারণ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং আমদানিকারকদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি বিক্রি
বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য প্রথমে এক হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি তা কমিয়ে এক হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বাজারে একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়।
কবে কমবে দাম
সরকার নির্ধারিত দামে কবে এলপিজি পাওয়া যাবে—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে দাম আগের অবস্থায় নেমে আসবে। তবে আমদানিকারকরা মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনা করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কাউকে লোকসানে ব্যবসা করতে বাধ্য করা যাবে না, তবে এলপিজির দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সরকারি উদ্যোগেও প্রভাব নেই
সরবরাহ সংকট কাটাতে জানুয়ারিতে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় এখনো বাজারে এর দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে সংরক্ষণ অবকাঠামোর ঘাটতি। পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা ছাড়া আমদানি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি আমদানিকারকদের সংরক্ষণ সুবিধাও ব্যবহার করা হতে পারে।
সক্রিয় আমদানিকারক কম
দেশে ৩৩টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানির অনুমতি পেলেও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে প্রায় ১০টি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন, যার ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ চুক্তির বদলে তাৎক্ষণিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা মূল্য অস্থিরতার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি ব্যাংকসংক্রান্ত জটিলতাও আমদানিকারকদের চাপে ফেলছে। এসব সমস্যা সমাধান হলে দ্রুতই এলপিজির বাজার স্থিতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















