গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড স্থায়ী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং মানবিক সহায়তা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে তা স্থায়ী জনসংখ্যা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা জাতিগত নিধনের শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
পশ্চিম তীরে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান ও বাস্তুচ্যুতি
পশ্চিম তীরের উত্তরে এক বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানে অন্তত ৩২ হাজার ফিলিস্তিনি ঘরছাড়া হয়েছেন বলে জানান তুর্ক। একই সঙ্গে বছরের শুরু থেকে রামাল্লাহর পূর্বাঞ্চল ও জর্ডান উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বেদুইন পশুপালক সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান হয়রানি ও সহিংসতার মুখে নিজেদের বসতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলোতে ইতিমধ্যে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বাস করছেন, আর ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ত্রিশ লাখ।
বসতি সম্প্রসারণ ও জমি নিবন্ধন উদ্যোগ
চলতি মাসে কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের সমর্থনে পশ্চিম তীরে জমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু এবং সরাসরি জমি কেনার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালে রেকর্ড ৫৪টি নতুন বসতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখলে রাখার প্রেক্ষাপটে এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
গাজায় যুদ্ধ, ধ্বংস ও মানবিক সংকট
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজার প্রায় ২২ লাখ বাসিন্দার অধিকাংশই অন্তত একবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাগাতার হামলা, পদ্ধতিগতভাবে পুরো মহল্লা ধ্বংস এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা গাজায় স্থায়ী জনসংখ্যা পরিবর্তনের আশঙ্কা জোরালো করছে।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে অভিবাসন উৎসাহিত করার কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদে অন্য কোনো সমাধান নেই। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ফাতহি নিমের মন্তব্য করেছেন, সর্বোচ্চ জমি আর সর্বনিম্ন আরব—এই নীতিই বসতি কৌশলের ভিত্তি হয়ে উঠছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান
জেনেভার অধিবেশনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী প্রতিনিধি জামাল আল মুশারাখ জানিয়েছেন, গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলায় তার দেশ অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এতে গাজার সবচেয়ে বড় দাতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে আমিরাত।
নতুন হামলায় নিহত দুই
এদিকে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালক ফাদেল নাইম জানান, নিহতরা হামাসের সদস্য ছিলেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















