বিবাহিত জীবনে স্বামীর নামে নিবন্ধিত হলেও ব্যাংক ঋণে কেনা গাড়ির মালিকানা শেষ পর্যন্ত ফিরে পেলেন এক তালাকপ্রাপ্ত নারী। কিস্তির পুরো অর্থ নিজের হিসাব থেকে পরিশোধ করছিলেন তিনি। বিচ্ছেদের পর গাড়ি ফেরত চাইলে সাবেক স্বামী সেটি উপহার বলে দাবি করে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ন্যায়বিচার পান ওই নারী।
মামলার পটভূমি
আদালতে দায়ের করা মামলায় নারী জানান, বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগে তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় আট লাখ সাত হাজারের বেশি দিরহাম মূল্যের একটি গাড়ি কেনেন। তবে দাম্পত্য জীবনের সময় গাড়িটি স্বামীর নামে নিবন্ধন করা হয়। বর্তমানে তিনি নিজের হিসাব থেকে প্রতি মাসে দশ হাজার চারশ একান্ন দিরহাম কিস্তি পরিশোধ করে চলেছেন।

বিচ্ছেদের পর তিনি স্বামীর কাছে গাড়ির মালিকানা নিজের নামে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান। কিন্তু সাবেক স্বামী দাবি করেন, গাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় নারী আদালতে মামলা করেন। তিনি শুধু মালিকানা হস্তান্তরই নয়, গাড়ি ব্যবহার করতে না পারার কারণে এক লাখ দিরহাম ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পাশাপাশি মামলার খরচ ও আইনজীবীর ফি পরিশোধের আবেদনও জানান।
আদালতে শুনানি ও যুক্তিতর্ক
মামলায় নারী পক্ষ গাড়ির মালিকানার নথি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে স্বামীর আইনজীবী দাবি করেন, এটি ছিল স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার, তাই মালিকানা ফেরতের দাবি অযৌক্তিক।

আদালত পর্যবেক্ষণে দেখে, গাড়ির অর্থায়ন নারীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থেকে হয়েছে এবং কিস্তিও তিনি নিয়মিত পরিশোধ করছেন। ফলে এটি উপহার নয়, বরং তার অর্থেই কেনা সম্পদ—এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
রায়ে যা বললেন আদালত
সব যুক্তি ও প্রমাণ বিবেচনায় আদালত গাড়ির নিবন্ধন নারীর নামে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এই রায় পারিবারিক বিরোধে সম্পদের মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতের মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















