০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি ফখরুলের অভিযোগ: ৫৪ নদীতে ভারতের বাঁধ, মরুভূমির শঙ্কায় বাংলাদেশ পদ্মা নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহের অংশ, শরীয়তপুরে চাঞ্চল্য সমাজ বদলে দেওয়া ছয় মানুষকে ‘এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননা দিল আবুল খায়ের গ্রুপ চীনে বাজার হারাচ্ছে বোয়িং, ট্রাম্পের ২০০ উড়োজাহাজ চুক্তিও দূর করতে পারছে না সংকট ব্রিকস বৈঠকে যৌথ ঘোষণা হয়নি, ইরান-সংকটে প্রকাশ্যে মতভেদ জাপানের সস্তা খাবারের আড়ালে যে কঠিন বাস্তবতা তোহোকুতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, থেমে গেল বুলেট ট্রেন চলাচল গডজিলা এখন শুধু দানব নয়, বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য সবজির দামে আগুন, বাড়তি চাপে ডিম-পেঁয়াজের বাজারও

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর এটি হতে পারে সমঝোতার শেষ সুযোগ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন বাড়িয়ে তেহরানের ওপর চাপ জোরদার করেছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে একটি নতুন চুক্তি চান। সাম্প্রতিক দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষে চাপে থাকা ইরানকে আলোচনায় রাজি করাতে এই সময়টিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

গত জুনে ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই সংঘাতকে ঘিরে টানা বারো দিনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ায়। ইরান জানিয়েছে, আবার হামলা হলে অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

Iranian foreign minister says country ready for dialogue with UK, France  and Germany | The Times of Israel

যুদ্ধের আশঙ্কা ও কূটনৈতিক বার্তা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হলে কেউ বিজয়ী হবে না, বরং তা হবে বিধ্বংসী। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জড়িয়ে পড়তে পারে।

আরাঘচি আলোচনায় মার্কিন বিশেষ দূতের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন ওমানের মাধ্যমে। ওমান দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। জেনেভায় পৌঁছে তিনি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পূর্ববর্তী আলোচনার নীতিমালা অনুসারে নতুন প্রস্তাব উপস্থাপনের বিষয়টি সেখানে পর্যালোচনা হয়।

আলোচনার সীমা ও মতপার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্র এই দফায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, আলোচনা কেবল পরমাণু কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

Some of Iran's Enriched Uranium Survived Attacks, Israeli Official Says -  The New York Times

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না, তবে সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান বলছে, জুনের পর থেকে তারা সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। উপগ্রহ চিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর কিছু এলাকায় তৎপরতার ইঙ্গিতও মিলেছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান ২০০৩ সাল পর্যন্ত গোপনে অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উচ্চমাত্রায় পৌঁছায়, যা অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ইরান এখনো অস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেনি, তবে প্রয়োজন হলে দ্রুত এগোনোর মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে জেনেভার আলোচনা কেবল দুই দেশের নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমঝোতা না হলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে

০৩:৪১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর এটি হতে পারে সমঝোতার শেষ সুযোগ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন বাড়িয়ে তেহরানের ওপর চাপ জোরদার করেছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে একটি নতুন চুক্তি চান। সাম্প্রতিক দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষে চাপে থাকা ইরানকে আলোচনায় রাজি করাতে এই সময়টিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

গত জুনে ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই সংঘাতকে ঘিরে টানা বারো দিনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ায়। ইরান জানিয়েছে, আবার হামলা হলে অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

Iranian foreign minister says country ready for dialogue with UK, France  and Germany | The Times of Israel

যুদ্ধের আশঙ্কা ও কূটনৈতিক বার্তা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হলে কেউ বিজয়ী হবে না, বরং তা হবে বিধ্বংসী। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জড়িয়ে পড়তে পারে।

আরাঘচি আলোচনায় মার্কিন বিশেষ দূতের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন ওমানের মাধ্যমে। ওমান দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। জেনেভায় পৌঁছে তিনি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পূর্ববর্তী আলোচনার নীতিমালা অনুসারে নতুন প্রস্তাব উপস্থাপনের বিষয়টি সেখানে পর্যালোচনা হয়।

আলোচনার সীমা ও মতপার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্র এই দফায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, আলোচনা কেবল পরমাণু কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

Some of Iran's Enriched Uranium Survived Attacks, Israeli Official Says -  The New York Times

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না, তবে সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান বলছে, জুনের পর থেকে তারা সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। উপগ্রহ চিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর কিছু এলাকায় তৎপরতার ইঙ্গিতও মিলেছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান ২০০৩ সাল পর্যন্ত গোপনে অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উচ্চমাত্রায় পৌঁছায়, যা অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ইরান এখনো অস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেনি, তবে প্রয়োজন হলে দ্রুত এগোনোর মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে জেনেভার আলোচনা কেবল দুই দেশের নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমঝোতা না হলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।