দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের নিম্নাঞ্চল থেকে খাইবারের লান্ডি কোটাল পর্যন্ত পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে রাতভর তীব্র গোলাগুলির পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে উসকানিমূলক হামলার জবাবে পাকিস্তান বাহিনী পাল্টা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সীমান্তের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চৌকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাতভর গুলিবিনিময়, সকালে থামে সংঘর্ষ
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে ভারী অস্ত্রের ব্যবহারসহ তীব্র গোলাগুলি চলে। বিশেষ করে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আঙ্গুর আড্ডা এলাকা এবং খাইবারের লান্ডি কোটাল সংলগ্ন সীমান্ত ছিল সংঘর্ষের মূল কেন্দ্র। তবে ভোরের পর ধীরে ধীরে গুলি থেমে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পাঁচ আফগান চৌকি দখলের দাবি
পাকিস্তান সেনাবাহিনী সমন্বিত অভিযানে আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের ভেতরে অবস্থিত একাধিক চৌকিতে লক্ষ্যভেদ করে। নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আফগান চৌকি দখলে নেওয়া হয় এবং সেখানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
দখল হওয়া চৌকিগুলোর মধ্যে শাওয়াল সংলগ্ন দুটি, আঙ্গুর আড্ডা সেক্টরের বিপরীতে দুটি এবং জারমিলান সংলগ্ন একটি চৌকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আঙ্গুর আড্ডায় স্থাপনা ধ্বংস
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, আঙ্গুর আড্ডা এলাকায় আফগান বাহিনীর একটি টার্মিনাল ধ্বংস করা হয়েছে, যা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আফগান চার্লি পোস্ট ও আফগান বাবরি পোস্ট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই সামরিক পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। সীমান্ত অখণ্ডতা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ হুমকি প্রতিরোধই ছিল মূল লক্ষ্য।
লান্ডি কোটালে আতঙ্কের রাত
খাইবারের লান্ডি কোটালের বাসিন্দারা জানান, রাতভর ভারী গোলাগুলির শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটান। সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গোলার কারণে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে।
এদিকে লান্ডি কোটালে স্থানীয় বাসিন্দারা আফগান পক্ষের উসকানিমূলক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভও করেন। তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং সীমান্তে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
উত্তেজনা থাকলেও সতর্ক অবস্থান
বর্তমানে সীমান্তে গুলি বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতির প্রতিটি অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















