সূর্য ডুবলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। রমজানের সন্ধ্যায় আজান ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান একসঙ্গে ইফতারে বসেন। ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষা আর সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ইফতারের মূল সুর একটাই—ঈমান, কৃতজ্ঞতা আর একতার বন্ধন।
দক্ষিণ এশিয়ায় ইফতারের রঙিন আয়োজন
ভারত ও পাকিস্তানের অলিগলিতে রমজান মানেই প্রাণচঞ্চল ইফতার বাজার। সামোসা, হালিম, পাকোড়া, ফলের চাট আর খেজুরের সুবাসে মুখর থাকে চারপাশ। পরিবার, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাওয়ার এই মুহূর্ত সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। অনেক মসজিদ ও সামাজিক সংগঠন বড় পরিসরে গণইফতারের আয়োজন করে, যেখানে অচেনা মানুষও এক টেবিলে বসে আপন হয়ে যান।

আমেরিকায় বৈচিত্র্যের ইফতার
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবাসীদের বৈচিত্র্য রমজানের আয়োজনেও প্রতিফলিত হয়। নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া—বিভিন্ন শহরের মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে আয়োজন করা হয় উন্মুক্ত ইফতার। ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষও সেখানে আমন্ত্রিত হন। আন্তধর্মীয় ইফতার আয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
গাজায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ইফতার
গাজার বাস্তবতা ভিন্ন ও কঠিন। ধ্বংসস্তূপ আর ক্ষতবিক্ষত ঘরের মাঝেই পরিবারগুলো ইফতারে বসে। অনেকেই অস্থায়ী আশ্রয়ে সামান্য খাবার ভাগাভাগি করে রোজা ভাঙেন। তবুও সূর্যাস্তের সেই মুহূর্তে বিশ্বাস আর ধৈর্যের শক্তিই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান ভরসা। প্রতিকূলতার মধ্যেও সম্প্রদায়বোধ তাদের একসঙ্গে রাখে।

ইউরোপে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে গণইফতার
লন্ডন, প্যারিস ও বার্লিনের মতো শহরগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণইফতারের সংস্কৃতি বেড়েছে। খোলা চত্বর, মসজিদ প্রাঙ্গণ কিংবা সামাজিক কেন্দ্র—সবখানেই নানা পেশা ও পরিচয়ের মানুষ একসঙ্গে বসেন। দাতব্য ইফতার ও উন্মুক্ত আয়োজন বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া: একই আবেগ
কায়রোর আল আজহার মসজিদে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ, করাচির মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততা, বাগদাদে রান্নার প্রস্তুতি কিংবা তেহরান, দোহা ও ইয়াঙ্গুনে পারিবারিক আয়োজন—সব জায়গায় একই আবেগ কাজ করে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে খেজুর মুখে দিয়ে যে ইফতার শুরু হয়, তা কেবল ক্ষুধা নিবারণের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও মানবিক সংযোগের প্রতীক।

বিশ্বের নানা প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র থাকলেও ইফতার শেষ পর্যন্ত একটাই বার্তা দেয়—রমজান মানে আত্মসমালোচনা, সহানুভূতি আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও মজবুত করা। এক টেবিলে বসে রুটি ভাগাভাগি করার মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে তৈরি হয় এক অদৃশ্য বন্ধন।











সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















