০৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কিউবা উপকূলে গোলাগুলির ঘটনায় নিজস্ব তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র, বললেন মার্কো রুবিও পাকিস্তানের পাল্টা অভিযানে ২৭৪ তালেবান সদস্য ও জঙ্গি নিহত: আইএসপিআর প্রধান ইউরোপ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পথে প্রস্তুত, কিন্তু তার মূল্য কত? দক্ষিণী সিনেমার মহীরুহ বি. নাগি রেড্ডি: আলোর আড়ালের এক নির্মাতার অজানা জীবনকথা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বকেয়া ও চাকরিচ্যুতি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন মার্কেলের সতর্কবার্তা: সুরক্ষাবাদে থমকে যাচ্ছে প্রবৃদ্ধি, বহুপাক্ষিকতার পথেই সমাধান পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার আত্মবিশ্বাস শাহর, সীমান্ত ঘেরাটোপ ও অনুপ্রবেশ রুখতেই প্রধান লক্ষ্য ভারতে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই নিষিদ্ধ, সব কপি জব্দের নির্দেশ; বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেখানোর অভিযোগে শীর্ষ আদালতের কড়া অবস্থান রমজানের ইফতারে বৈচিত্র্য আনতে ৮ সহজ রেসিপি, স্বাদে-স্বাস্থ্যে পরিপূর্ণ আয়োজন পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত: ইজরায়েলে মোদির কূটনৈতিক বার্তা

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার আত্মবিশ্বাস শাহর, সীমান্ত ঘেরাটোপ ও অনুপ্রবেশ রুখতেই প্রধান লক্ষ্য

পশ্চিমবিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিলেন—আগামী নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিই সরকার গড়বে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। আর সেই সরকার গঠিত হলে প্রথম কাজ হবে সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ বেড়া নির্মাণ এবং এক জন অনুপ্রবেশকারীও যাতে দেশে থাকতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

বিহারের আরারিয়া জেলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও বিহার দীর্ঘদিন ধরেই জনসংখ্যার গঠনগত পরিবর্তনের চাপে রয়েছে। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তনের মূল কারণ অনুপ্রবেশ।

সীমান্তে কড়া নজর, অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের অঙ্গীকার

শাহ জানান, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠিত হলে সীমান্ত ঘেরা সম্পূর্ণ করা হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। তাঁর ভাষায়, শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নয়, দেশের মাটি থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর।

BJP will win West Bengal polls, drive out every single infiltrator,' Amit  Shah claims - The Economic Times

তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীরা নির্বাচনে প্রভাব ফেলে, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ রেশন কেড়ে নেয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত করে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রেক্ষিতে বিহার সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি। সীমান্তের দশ কিলোমিটারের মধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জনসংখ্যা পরিবর্তন নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি

দেশজুড়ে জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান শাহ। এই কমিটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ সমগ্র দেশের জনসংখ্যার গঠনের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করবে এবং ভারসাম্য রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে কেন্দ্রকে সুপারিশ দেবে।

Shah: BJP Will Win Bengal, Act Against Infiltrators

শাহর মতে, অনুপ্রবেশ ও অবৈধ দখলের ফলে যে জনসংখ্যা পরিবর্তন ঘটে তা কোনও সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক নয়। বরং তা দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভৌগোলিক সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সাভারকরের প্রতি শ্রদ্ধা, সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি

ভাষণের শুরুতেই তিনি বিনায়ক দামোদর সাভারকরের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর দাবি, সাভারকরের লেখনীর মাধ্যমেই ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে ২০১৪ সালের পর থেকে সহানুভূতিশীল কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারত-নেপাল সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের আওতায় ৫৫৪ কিলোমিটার রাস্তা অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ অংশে কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান।

নির্বাচনের আগে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যু যে বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে, শাহর বক্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

 

কিউবা উপকূলে গোলাগুলির ঘটনায় নিজস্ব তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র, বললেন মার্কো রুবিও

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার আত্মবিশ্বাস শাহর, সীমান্ত ঘেরাটোপ ও অনুপ্রবেশ রুখতেই প্রধান লক্ষ্য

০৬:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পশ্চিমবিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিলেন—আগামী নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিই সরকার গড়বে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। আর সেই সরকার গঠিত হলে প্রথম কাজ হবে সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ বেড়া নির্মাণ এবং এক জন অনুপ্রবেশকারীও যাতে দেশে থাকতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

বিহারের আরারিয়া জেলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও বিহার দীর্ঘদিন ধরেই জনসংখ্যার গঠনগত পরিবর্তনের চাপে রয়েছে। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তনের মূল কারণ অনুপ্রবেশ।

সীমান্তে কড়া নজর, অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের অঙ্গীকার

শাহ জানান, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠিত হলে সীমান্ত ঘেরা সম্পূর্ণ করা হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। তাঁর ভাষায়, শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নয়, দেশের মাটি থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর।

BJP will win West Bengal polls, drive out every single infiltrator,' Amit  Shah claims - The Economic Times

তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীরা নির্বাচনে প্রভাব ফেলে, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ রেশন কেড়ে নেয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত করে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রেক্ষিতে বিহার সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি। সীমান্তের দশ কিলোমিটারের মধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জনসংখ্যা পরিবর্তন নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি

দেশজুড়ে জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান শাহ। এই কমিটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ সমগ্র দেশের জনসংখ্যার গঠনের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করবে এবং ভারসাম্য রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে কেন্দ্রকে সুপারিশ দেবে।

Shah: BJP Will Win Bengal, Act Against Infiltrators

শাহর মতে, অনুপ্রবেশ ও অবৈধ দখলের ফলে যে জনসংখ্যা পরিবর্তন ঘটে তা কোনও সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক নয়। বরং তা দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভৌগোলিক সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সাভারকরের প্রতি শ্রদ্ধা, সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি

ভাষণের শুরুতেই তিনি বিনায়ক দামোদর সাভারকরের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর দাবি, সাভারকরের লেখনীর মাধ্যমেই ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে ২০১৪ সালের পর থেকে সহানুভূতিশীল কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারত-নেপাল সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের আওতায় ৫৫৪ কিলোমিটার রাস্তা অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ অংশে কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান।

নির্বাচনের আগে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যু যে বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে, শাহর বক্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।