বিশ্ব রাজনীতিতে সহযোগিতার যে শৃঙ্খলা একসময় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি ছিল, তা এখন শক্তির দাপটে ভেঙে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। দিল্লিতে ড. মনমোহন সিং স্মারক বক্তৃতায় তিনি বলেন, সুরক্ষাবাদী নীতি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হবে।
বিশ্বব্যবস্থায় শক্তির রাজনীতি
মার্কেল বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক সীমানা ও ভূখণ্ডগত নীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। ফলে সহযোগিতাভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার জায়গা নিচ্ছে শক্তির রাজনীতি।
তিনি মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ড. মনমোহন সিংয়ের চিন্তা ও নীতির প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় সিং যে সহযোগিতামূলক অবস্থান নিয়েছিলেন, তা আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সুরক্ষাবাদ বনাম মুক্ত বাণিজ্য
মার্কেল স্পষ্ট করে বলেন, সুরক্ষাবাদ প্রবৃদ্ধিকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব অনেক বেশি। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়াকে তিনি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা কখনোই দ্বন্দ্ব দিয়ে নয়, সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব।
মনমোহন সিংয়ের উত্তরাধিকার
ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কেল বলেন, ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক উদারীকরণ ভারতের পরবর্তী তিন দশকের প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি কখনো নিজের মত চাপিয়ে দিতেন না, বরং উন্নয়নশীল বিশ্বের বাস্তবতা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করতেন।
ভারতের বৈচিত্র্য ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এক বিলিয়নের বেশি মানুষের দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া গর্বের বিষয়। তবে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র এখন চাপে রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জলবায়ু ও প্রযুক্তি নিয়ে সতর্কতা
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে মার্কেল জানান, শুরুতে ভারত বাধ্যতামূলক কার্বন কমানোর প্রতিশ্রুতিতে সম্মত না হলেও পরবর্তীতে সমঝোতার পথেই প্যারিস চুক্তি সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন প্রযুক্তি বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকারগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নইলে বহুপাক্ষিকতার ধারণাই অচল হয়ে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















