১০:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
জাপানে নতুন রূপে ফিরছে বরই মদ: ঐতিহ্যের স্বাদে আধুনিক উদ্ভাবন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে মেক্সিকো উপসাগরে বড় তেল প্রকল্পে অনুমোদন পেল BP চীনমুক্ত ড্রোনে উড়াল তাইওয়ানের: বৈশ্বিক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা ইরানের হামলায় আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৬ নিহত, ১৪১ জন আহত ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতায় প্রস্তুত ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ ইরানের দাবি: আবুধাবি, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ‘উন্নত অস্ত্র’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে বাহরাইন ও সৌদি আরবের ফর্মুলা ওয়ান রেস আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার

একুশে পদকজয়ী রোকেয়া সুলতানার ছাপচিত্র কর্মশালা শুরু, শিল্পমাধ্যমে নতুনদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

রাজধানীতে শুরু হয়েছে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী রোকেয়া সুলতানার তিন দিনব্যাপী ছাপচিত্র কর্মশালা। ‘রোকেয়ার ছাপ–২’ শিরোনামের এই আয়োজন শুক্রবার নগরীর কসমস সেন্টারের কসমস-আতেলিয়ে৭১–এ উদ্বোধন করা হয়। শিল্পপ্রেমী ও নবীন অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহে কর্মশালাটি পরিণত হয়েছে সৃজনশীল এক মিলনমেলায়।

উদ্বোধনী আয়োজনে শিল্পী রোকেয়া সুলতানা উপস্থিত থেকে কর্মশালার সূচনা করেন। চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত এই শিল্পী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুষ্ঠানে কসমস-আতেলিয়ে৭১–এর পরিচালক তাহমিনা এনায়েতসহ শিল্পী, শিক্ষার্থী ও শিল্পানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোকেয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক, আয়োজনের পেছনের ভাবনা

উদ্বোধনী বক্তব্যে তাহমিনা এনায়েত জানান, রোকেয়া সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে কসমস-আতেলিয়ে৭১–এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, বরং একজন পথপ্রদর্শক ও সহযোগী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সম্প্রতি বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই কর্মশালার পরিকল্পনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস ও আগ্রহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আয়োজনটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Ekushey Padak winner Rokeya Sultana's printmaking workshop begins at Cosmos Atelier71

ছাপচিত্র মানসিক অনুসন্ধানের এক সৃজনভূমি

রোকেয়া সুলতানা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই কর্মশালাটি বিশেষভাবে তাঁদের জন্য পরিকল্পিত, যারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছাপচিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করেননি। তাঁর ভাষায়, ছাপচিত্র আসলে “মনের অনুসন্ধান”। এই মাধ্যমে ভাবনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রকাশের যে স্বাধীনতা রয়েছে, তা শিল্পীকে নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ দেয়।

কোলাগ্রাফ পদ্ধতিতে হাতে-কলমে শিক্ষা

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের কোলাগ্রাফ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রোকেয়া সুলতানা। এই কৌশলে শক্ত ভিত্তির ওপর কাগজ, কাপড়, পাতা, বালি, সুতা কিংবা কার্ডবোর্ডের মতো উপকরণ সংযুক্ত করে টেক্সচারযুক্ত ছাপের প্লেট তৈরি করা হয়। পরে উঁচু বা খোদাই পদ্ধতিতে ছাপ নিয়ে তৈরি হয় বৈচিত্র্যময় ও অভিব্যক্তিময় চিত্র। ফলে একই প্লেট থেকে ভিন্ন মাত্রার শিল্পরূপ ফুটে ওঠে।

সমকালীন শিল্পভুবনে রোকেয়ার স্বতন্ত্র অবস্থান

বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পাঙ্গনে রোকেয়া সুলতানা একটি উজ্জ্বল নাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান। দেশ-বিদেশে তাঁর অসংখ্য প্রদর্শনী হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই শিল্পীর কাজে শক্তিশালী বর্ণনা, সংবেদনশীল অনুসন্ধান ও বিমূর্ত বিন্যাস বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

এক বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর একুশে পদক বাংলাদেশের নারীর শক্তিকেই অভিবাদন জানায়। এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং নারীর সৃজনশীল সামর্থ্যের প্রতীক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালা রোববার পর্যন্ত চলবে। আয়োজকদের আশা, এর মাধ্যমে ছাপচিত্রে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা অনুপ্রাণিত হবেন এবং এই মাধ্যমকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ পাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে নতুন রূপে ফিরছে বরই মদ: ঐতিহ্যের স্বাদে আধুনিক উদ্ভাবন

একুশে পদকজয়ী রোকেয়া সুলতানার ছাপচিত্র কর্মশালা শুরু, শিল্পমাধ্যমে নতুনদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

১১:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে শুরু হয়েছে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী রোকেয়া সুলতানার তিন দিনব্যাপী ছাপচিত্র কর্মশালা। ‘রোকেয়ার ছাপ–২’ শিরোনামের এই আয়োজন শুক্রবার নগরীর কসমস সেন্টারের কসমস-আতেলিয়ে৭১–এ উদ্বোধন করা হয়। শিল্পপ্রেমী ও নবীন অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহে কর্মশালাটি পরিণত হয়েছে সৃজনশীল এক মিলনমেলায়।

উদ্বোধনী আয়োজনে শিল্পী রোকেয়া সুলতানা উপস্থিত থেকে কর্মশালার সূচনা করেন। চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত এই শিল্পী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুষ্ঠানে কসমস-আতেলিয়ে৭১–এর পরিচালক তাহমিনা এনায়েতসহ শিল্পী, শিক্ষার্থী ও শিল্পানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোকেয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক, আয়োজনের পেছনের ভাবনা

উদ্বোধনী বক্তব্যে তাহমিনা এনায়েত জানান, রোকেয়া সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে কসমস-আতেলিয়ে৭১–এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, বরং একজন পথপ্রদর্শক ও সহযোগী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সম্প্রতি বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই কর্মশালার পরিকল্পনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস ও আগ্রহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আয়োজনটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Ekushey Padak winner Rokeya Sultana's printmaking workshop begins at Cosmos Atelier71

ছাপচিত্র মানসিক অনুসন্ধানের এক সৃজনভূমি

রোকেয়া সুলতানা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই কর্মশালাটি বিশেষভাবে তাঁদের জন্য পরিকল্পিত, যারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছাপচিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করেননি। তাঁর ভাষায়, ছাপচিত্র আসলে “মনের অনুসন্ধান”। এই মাধ্যমে ভাবনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রকাশের যে স্বাধীনতা রয়েছে, তা শিল্পীকে নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ দেয়।

কোলাগ্রাফ পদ্ধতিতে হাতে-কলমে শিক্ষা

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের কোলাগ্রাফ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রোকেয়া সুলতানা। এই কৌশলে শক্ত ভিত্তির ওপর কাগজ, কাপড়, পাতা, বালি, সুতা কিংবা কার্ডবোর্ডের মতো উপকরণ সংযুক্ত করে টেক্সচারযুক্ত ছাপের প্লেট তৈরি করা হয়। পরে উঁচু বা খোদাই পদ্ধতিতে ছাপ নিয়ে তৈরি হয় বৈচিত্র্যময় ও অভিব্যক্তিময় চিত্র। ফলে একই প্লেট থেকে ভিন্ন মাত্রার শিল্পরূপ ফুটে ওঠে।

সমকালীন শিল্পভুবনে রোকেয়ার স্বতন্ত্র অবস্থান

বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পাঙ্গনে রোকেয়া সুলতানা একটি উজ্জ্বল নাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান। দেশ-বিদেশে তাঁর অসংখ্য প্রদর্শনী হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই শিল্পীর কাজে শক্তিশালী বর্ণনা, সংবেদনশীল অনুসন্ধান ও বিমূর্ত বিন্যাস বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

এক বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর একুশে পদক বাংলাদেশের নারীর শক্তিকেই অভিবাদন জানায়। এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং নারীর সৃজনশীল সামর্থ্যের প্রতীক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালা রোববার পর্যন্ত চলবে। আয়োজকদের আশা, এর মাধ্যমে ছাপচিত্রে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা অনুপ্রাণিত হবেন এবং এই মাধ্যমকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ পাবেন।