০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
ভারত–ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে কী বদল আনতে পারেন মোদি ও প্রবোও? জনতার দাবীতে ভাসা সহজ, রাষ্ট্র চালানো কঠিন ফারুক সুলেইমান: আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে পরিচিত এক সাংবাদিক প্রিন্স হ্যারির হাসপাতাল সফরে নতুন বার্তা, বিতর্কের পর যুক্তরাজ্য সফর ফের ইতিবাচক পথে নতুন মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠল ইরান, বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশেও আঘাত; উপসাগরজুড়ে উত্তেজনা ফ্রান্স-মরক্কো মহারণ: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও মুখোমুখি দুই পরিচিত প্রতিপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত ১২ বাংলাদেশি, রাশিয়ায় যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগে প্রাণ গেছে আরও ৪ জনের ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক নিজেই তৈরি করবে ইউক্রেন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই কোর্সে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন সুযোগ ঢাকায় এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক বদল, ১১৭ ক্যামেরায় নজরদারি

ক্লিনটনের সাফাই: এপস্টেইনের সঙ্গে ছিল সম্পর্ক, ‘অপরাধের কিছু দেখিনি’

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ঘিরে কংগ্রেসের তদন্তে অবশেষে গোপন জবানবন্দি দিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। আইনপ্রণেতাদের সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটালেও তিনি এমন কিছু দেখেননি যা তাকে সন্দেহে ফেলতে পারত।

শুক্রবার কংগ্রেসের তদারকি কমিটির সামনে দেওয়া প্রস্তুত বিবৃতিতে ক্লিনটন বলেন, যদি তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতেন, তাহলে কখনও এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করতেন না। এমন তথ্য পেলে তিনি তা কর্তৃপক্ষকে জানাতেন বলেও দাবি করেন তিনি।

Bill Clinton says he 'did nothing wrong' with Epstein

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

দুই হাজার সালের শুরুর দিকে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর একাধিকবার এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন ক্লিনটন। দুই হাজার আট সালে নাবালিকার কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার অপরাধে এপস্টেইনের দণ্ড হওয়ার আগের সময়েই এই সফরগুলো হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় নথিতে ক্লিনটনের সঙ্গে কয়েকজন নারীর ছবি রয়েছে, যদিও সেসব ছবিতে নারীদের মুখ আড়াল করা। তবে ক্লিনটনের বক্তব্য, তিনি কিছুই দেখেননি এবং কোনো ভুলও করেননি।

হিলারির জবানবন্দি ও অতিরিক্ত প্রশ্ন

এর আগে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ শুনানিতে জবানবন্দি দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে কখনও দেখা হয়েছে বলে তার মনে পড়ে না এবং তার অপরাধ নিয়ে বলার মতো কিছু নেই। শুনানিতে তাকে উড়ন্ত বস্তু ও দুই হাজার ষোল সালের একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়েও প্রশ্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি হিলারি ক্লিনটনের

ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক

কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানিয়েছেন, ক্লিনটনরা কোনো অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নন। তবে তাদের দাতব্য ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

শুনানির বিরতিতে কোমার সাংবাদিকদের বলেন, ক্লিনটন কমিটিকে জানিয়েছেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনও এমন কিছু বলেননি যা থেকে তার মনে হয়েছে ট্রাম্প এপস্টেইনের সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

তবে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাদের মতে, এতে ট্রাম্পের অতীত বক্তব্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা ট্রাম্পকেও জবানবন্দির জন্য তলব করার দাবি জানান, যদিও চেয়ারম্যান তা নাকচ করেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগ এমন এক নারীর নথি প্রকাশে গড়িমসি করছে, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নথিপত্র পর্যালোচনা চলছে এবং উপযুক্ত হলে প্রকাশ করা হবে, তবে সেখানে ভিত্তিহীন অভিযোগও রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতি - উইকিপিডিয়া

 

পুরনো সম্পর্ক, নতুন চাপ

এপস্টেইনের নথিতে ট্রাম্পের নাম একাধিকবার এসেছে। নব্বই ও দুই হাজার সালের শুরুর দিকে তাদের সামাজিক সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই হাজার আট সালের দণ্ডের আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এপস্টেইন–সংক্রান্ত কোনো অপরাধে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবে সম্পর্কের বিষয়টি বহু বছর ধরেই তাকে রাজনৈতিক চাপে রেখেছে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ক্লিনটনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, তাকে এভাবে জবানবন্দি দিতে দেখা তার ভালো লাগেনি, যদিও তার বিরুদ্ধে আরও বেশি তদন্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Bill Clinton to lawmakers investigating Epstein: 'I saw nothing' | The  Daily Star

অবমাননার হুমকি ও রাজনৈতিক অভিযোগ

সহযোগিতা না করলে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার হুমকি দেওয়ার পর নিউইয়র্কের চ্যাপাকোয়ায় নিজ বাসভবনের কাছে সাক্ষ্য দিতে রাজি হন ক্লিনটন দম্পতি। কিছু ডেমোক্র্যাটও এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেন।

ক্লিনটন দম্পতির অভিযোগ, এই তদন্ত মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ট্রাম্পকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে রক্ষা করতেই এ উদ্যোগ। তাদের দাবি, তদন্তে অন্যদের ক্ষেত্রে লিখিত বিবৃতি গ্রহণ করা হলেও তাদের সরাসরি হাজির হতে বাধ্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুই হাজার উনিশ সালে ফেডারেল যৌনপাচার মামলার মুখোমুখি থাকা অবস্থায় কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত–ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে কী বদল আনতে পারেন মোদি ও প্রবোও?

ক্লিনটনের সাফাই: এপস্টেইনের সঙ্গে ছিল সম্পর্ক, ‘অপরাধের কিছু দেখিনি’

১২:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ঘিরে কংগ্রেসের তদন্তে অবশেষে গোপন জবানবন্দি দিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। আইনপ্রণেতাদের সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটালেও তিনি এমন কিছু দেখেননি যা তাকে সন্দেহে ফেলতে পারত।

শুক্রবার কংগ্রেসের তদারকি কমিটির সামনে দেওয়া প্রস্তুত বিবৃতিতে ক্লিনটন বলেন, যদি তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতেন, তাহলে কখনও এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করতেন না। এমন তথ্য পেলে তিনি তা কর্তৃপক্ষকে জানাতেন বলেও দাবি করেন তিনি।

Bill Clinton says he 'did nothing wrong' with Epstein

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

দুই হাজার সালের শুরুর দিকে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর একাধিকবার এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন ক্লিনটন। দুই হাজার আট সালে নাবালিকার কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার অপরাধে এপস্টেইনের দণ্ড হওয়ার আগের সময়েই এই সফরগুলো হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় নথিতে ক্লিনটনের সঙ্গে কয়েকজন নারীর ছবি রয়েছে, যদিও সেসব ছবিতে নারীদের মুখ আড়াল করা। তবে ক্লিনটনের বক্তব্য, তিনি কিছুই দেখেননি এবং কোনো ভুলও করেননি।

হিলারির জবানবন্দি ও অতিরিক্ত প্রশ্ন

এর আগে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ শুনানিতে জবানবন্দি দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে কখনও দেখা হয়েছে বলে তার মনে পড়ে না এবং তার অপরাধ নিয়ে বলার মতো কিছু নেই। শুনানিতে তাকে উড়ন্ত বস্তু ও দুই হাজার ষোল সালের একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়েও প্রশ্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি হিলারি ক্লিনটনের

ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক

কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানিয়েছেন, ক্লিনটনরা কোনো অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নন। তবে তাদের দাতব্য ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

শুনানির বিরতিতে কোমার সাংবাদিকদের বলেন, ক্লিনটন কমিটিকে জানিয়েছেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনও এমন কিছু বলেননি যা থেকে তার মনে হয়েছে ট্রাম্প এপস্টেইনের সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

তবে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাদের মতে, এতে ট্রাম্পের অতীত বক্তব্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা ট্রাম্পকেও জবানবন্দির জন্য তলব করার দাবি জানান, যদিও চেয়ারম্যান তা নাকচ করেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগ এমন এক নারীর নথি প্রকাশে গড়িমসি করছে, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নথিপত্র পর্যালোচনা চলছে এবং উপযুক্ত হলে প্রকাশ করা হবে, তবে সেখানে ভিত্তিহীন অভিযোগও রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতি - উইকিপিডিয়া

 

পুরনো সম্পর্ক, নতুন চাপ

এপস্টেইনের নথিতে ট্রাম্পের নাম একাধিকবার এসেছে। নব্বই ও দুই হাজার সালের শুরুর দিকে তাদের সামাজিক সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই হাজার আট সালের দণ্ডের আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এপস্টেইন–সংক্রান্ত কোনো অপরাধে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবে সম্পর্কের বিষয়টি বহু বছর ধরেই তাকে রাজনৈতিক চাপে রেখেছে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ক্লিনটনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, তাকে এভাবে জবানবন্দি দিতে দেখা তার ভালো লাগেনি, যদিও তার বিরুদ্ধে আরও বেশি তদন্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Bill Clinton to lawmakers investigating Epstein: 'I saw nothing' | The  Daily Star

অবমাননার হুমকি ও রাজনৈতিক অভিযোগ

সহযোগিতা না করলে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার হুমকি দেওয়ার পর নিউইয়র্কের চ্যাপাকোয়ায় নিজ বাসভবনের কাছে সাক্ষ্য দিতে রাজি হন ক্লিনটন দম্পতি। কিছু ডেমোক্র্যাটও এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেন।

ক্লিনটন দম্পতির অভিযোগ, এই তদন্ত মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ট্রাম্পকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে রক্ষা করতেই এ উদ্যোগ। তাদের দাবি, তদন্তে অন্যদের ক্ষেত্রে লিখিত বিবৃতি গ্রহণ করা হলেও তাদের সরাসরি হাজির হতে বাধ্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুই হাজার উনিশ সালে ফেডারেল যৌনপাচার মামলার মুখোমুখি থাকা অবস্থায় কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।