০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান সংকট তীব্র, ট্রাম্প বললেন শাসন বদলের সুযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, আবুধাবিতে নিহত ১ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে আতঙ্ক ও পালানোর হিড়িক পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার পাকিস্তানের আফগান হামলা ‘খোলা যুদ্ধ’কে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ দিতে পারে

শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান, লেনদেনে বড় পতন

দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজারে সপ্তাহজুড়ে সূচকের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—উভয় বাজারেই সব প্রধান সূচক বেড়েছে। তবে সূচক বাড়লেও সামগ্রিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আচরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের চিত্র

সপ্তাহিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ২.৫ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগের সপ্তাহে সূচক ছিল ৫,৪৬৫ পয়েন্ট, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৫,৬০০ পয়েন্টে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সূচক প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি অবস্থানে রয়েছে।

শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ২১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ শতাংশ সাপ্তাহিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ ৭১ পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৩.৫ শতাংশ উন্নতি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ১৭ শতাংশ উঁচুতে রয়েছে।

লেনদেনে ধস

সূচক বাড়লেও গড় দৈনিক লেনদেন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে যেখানে গড় লেনদেন ছিল ১,০৫০ কোটি টাকা, সেখানে চলতি সপ্তাহে তা নেমে এসেছে ৭২৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের গতি কমলেও সূচকের উত্থান অব্যাহত রয়েছে।

তালিকাভুক্ত ২৭৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৮৩টির দাম কমেছে এবং ৩২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ বড় খাতেই দরপতন হয়েছে। ব্যাংক খাতে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৩৫ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে। সাধারণ বীমা খাতে ৬০ শতাংশ এবং জীবন বীমা খাতে ৪০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে।

লেনদেনের শীর্ষে যেসব শেয়ার

সপ্তাহে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে দ্য সিটি ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারে। ব্লক মার্কেটে অলিম্পিক, গ্রামীণফোন, ওরিয়ন ইনফিউশন ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট উল্লেখযোগ্য লেনদেন করেছে।

স্পেকুলেটিভ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক

এই সপ্তাহে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার—যেগুলো সাধারণত দুর্বল ও লভ্যাংশবিহীন হিসেবে পরিচিত—দাম বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল। শীর্ষ দশ গেইনারের মধ্যে নয়টি ছিল জেড ক্যাটাগরির এবং একটি বি ক্যাটাগরির। এতে বোঝা যায়, সূচকের উত্থানের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে শীর্ষ দশ দরপতনের তালিকায় সাতটি ছিল এ ক্যাটাগরির শেয়ার, যেগুলো সাধারণত শক্তিশালী মৌলভিত্তি ও উচ্চ লভ্যাংশের জন্য পরিচিত।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধারা দেখা গেছে। সার্বিক ক্যাসপি সূচক ২৪৮ পয়েন্ট বেড়েছে। ব্লু-চিপ সিএসই৩০ সূচক ২৮৭ পয়েন্ট এবং সিএসই৫০ সূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়েছে। শরিয়াহ সূচকও ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ১৫০টির দাম বেড়েছে, ১০৭টির কমেছে এবং ২৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখানেও জেড ক্যাটাগরির শেয়ার শীর্ষ গেইনার তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে। শীর্ষ দশ গেইনারের নয়টি ছিল জেড এবং একটি বি ক্যাটাগরির। অন্যদিকে শীর্ষ দশ লুজারের মধ্যে ছয়টি ছিল এ ক্যাটাগরির শেয়ার।

সপ্তাহে সিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, এমএল ডাইং, লাভেলো আইসক্রিম এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড়

শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান, লেনদেনে বড় পতন

০৬:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজারে সপ্তাহজুড়ে সূচকের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—উভয় বাজারেই সব প্রধান সূচক বেড়েছে। তবে সূচক বাড়লেও সামগ্রিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আচরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের চিত্র

সপ্তাহিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ২.৫ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগের সপ্তাহে সূচক ছিল ৫,৪৬৫ পয়েন্ট, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৫,৬০০ পয়েন্টে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সূচক প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি অবস্থানে রয়েছে।

শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ২১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ শতাংশ সাপ্তাহিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ ৭১ পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৩.৫ শতাংশ উন্নতি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ১৭ শতাংশ উঁচুতে রয়েছে।

লেনদেনে ধস

সূচক বাড়লেও গড় দৈনিক লেনদেন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে যেখানে গড় লেনদেন ছিল ১,০৫০ কোটি টাকা, সেখানে চলতি সপ্তাহে তা নেমে এসেছে ৭২৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের গতি কমলেও সূচকের উত্থান অব্যাহত রয়েছে।

তালিকাভুক্ত ২৭৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৮৩টির দাম কমেছে এবং ৩২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ বড় খাতেই দরপতন হয়েছে। ব্যাংক খাতে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৩৫ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে। সাধারণ বীমা খাতে ৬০ শতাংশ এবং জীবন বীমা খাতে ৪০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে।

লেনদেনের শীর্ষে যেসব শেয়ার

সপ্তাহে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে দ্য সিটি ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারে। ব্লক মার্কেটে অলিম্পিক, গ্রামীণফোন, ওরিয়ন ইনফিউশন ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট উল্লেখযোগ্য লেনদেন করেছে।

স্পেকুলেটিভ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক

এই সপ্তাহে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার—যেগুলো সাধারণত দুর্বল ও লভ্যাংশবিহীন হিসেবে পরিচিত—দাম বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল। শীর্ষ দশ গেইনারের মধ্যে নয়টি ছিল জেড ক্যাটাগরির এবং একটি বি ক্যাটাগরির। এতে বোঝা যায়, সূচকের উত্থানের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে শীর্ষ দশ দরপতনের তালিকায় সাতটি ছিল এ ক্যাটাগরির শেয়ার, যেগুলো সাধারণত শক্তিশালী মৌলভিত্তি ও উচ্চ লভ্যাংশের জন্য পরিচিত।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধারা দেখা গেছে। সার্বিক ক্যাসপি সূচক ২৪৮ পয়েন্ট বেড়েছে। ব্লু-চিপ সিএসই৩০ সূচক ২৮৭ পয়েন্ট এবং সিএসই৫০ সূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়েছে। শরিয়াহ সূচকও ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ১৫০টির দাম বেড়েছে, ১০৭টির কমেছে এবং ২৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখানেও জেড ক্যাটাগরির শেয়ার শীর্ষ গেইনার তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে। শীর্ষ দশ গেইনারের নয়টি ছিল জেড এবং একটি বি ক্যাটাগরির। অন্যদিকে শীর্ষ দশ লুজারের মধ্যে ছয়টি ছিল এ ক্যাটাগরির শেয়ার।

সপ্তাহে সিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, এমএল ডাইং, লাভেলো আইসক্রিম এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।