রাজনীতিতে বিরোধিতার চিরাচরিত ধারা ভেঙে সংসদে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার যে সব যৌক্তিক উদ্যোগ নেবে, সেগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেবে জামায়াত। একই সঙ্গে সংসদকে অর্থবহ ও জনগণের আশার কেন্দ্রে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বক্তব্য দেন। ইফতারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদে প্রচলিত বিরোধিতার বাইরে থাকার ইঙ্গিত
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত সংসদে প্রচলিত অর্থে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় না। তাঁর ভাষায়, সংসদ শুধু আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা করার জায়গা নয়, বরং এটি হওয়া উচিত জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের কেন্দ্র।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে, তেমনি বিরোধী দল হিসেবেও জামায়াত দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।

‘ডামি’ বিরোধী দলের অভিযোগ
অতীতের সংসদীয় চর্চা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এমন নির্বাচন হয়েছে যেখানে প্রার্থীদের সঙ্গে ‘ডামি’ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ফলে সরকার ও বিরোধী দল—দুটিই ছিল প্রতীকী। তাঁর মতে, এমন বিরোধিতা কোনো দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
তিনি জানান, সরকার যদি কোনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়, তবে প্রথমে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং পরামর্শ দেওয়া হবে। সরকার সে পরামর্শ গ্রহণ করলে জাতি উপকৃত হবে। আর যদি গ্রহণ না করে, তখন বিরোধী দলের প্রত্যাশিত ভূমিকাই পালন করবে জামায়াত।
‘দুই চাকা ছাড়া গাড়ি চলে না’
সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সংসদকে কার্যকর বাহনে পরিণত করতে হবে। তিনি উপমা টেনে বলেন, একটি গাড়ি এক চাকা দিয়ে চলে না। সামনের চাকা যদি হয় সরকার, তবে পেছনের চাকা হবে বিরোধী দল। দুটির সমন্বয় ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করে সংবিধানে বিদ্যমান ‘কালো আইন’ অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবেন।

হতাশার রাজনীতি থেকে মুক্তির প্রত্যাশা
দীর্ঘদিনের হতাশার রাজনীতি থেকে জাতিকে বের করে আনার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তাঁর মতে, গঠনমূলক রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অতীতের হতাশাজনক ধারার অবসান ঘটবে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের পর প্রতিবাদে খালেদা জিয়ার অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, সেই ভূমিকা দল চিরকাল স্মরণে রাখবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















