০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

উন্নয়নই চূড়ান্ত কঠোর শক্তি: নিরাপত্তার নতুন সমীকরণে বড় বার্তা

বিশ্ব রাজনীতির অস্থির সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সামরিক জোট, প্রতিরক্ষা বাজেট কিংবা প্রভাব বলয়ের বাইরে এসে স্পষ্ট হচ্ছে—উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার আসল ভিত্তি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আলোচনাগুলোয় ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, টেকসই অবকাঠামো এবং আস্থাভিত্তিক অংশীদারিত্ব।

নিরাপত্তা শুধু অস্ত্র নয়, প্রতিষ্ঠানের শক্তি

আজকের বিভক্ত বিশ্বে নিরাপত্তা মানে কেবল সামরিক সক্ষমতা নয়। বরং রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে শিক্ষা, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে পারছে, সেটিই নির্ধারণ করছে স্থিতিশীলতার মাত্রা। শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান সমাজকে ধাক্কা সামলাতে সক্ষম করে।

অনেক নীতিনির্ধারক এখনও উন্নয়ন সহায়তাকে দানখয়রাত হিসেবে দেখেন। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গিই দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের বীজ বপন করে। কারণ সহিংসতার মূল কারণগুলো উপেক্ষা করলে তার মূল্য দিতে হয় প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক অস্থিরতার মাধ্যমে।

Alexander De Croo explains why investments to alleviate poverty and shore  up institutions are as important as tanks and drones.  https://www.project-syndicate.org/commentary/development-is-hard-power-best -means-to-prevent-conflict-long-term-by-alexander ...

প্রতিরোধে বিনিয়োগই সর্বোচ্চ সাশ্রয়

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাত প্রতিরোধ ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করা প্রতি এক ডলার ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় একশ তিন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে। সামরিক অভিযান, মানবিক সহায়তা কিংবা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের খরচ—সব মিলিয়ে এই অঙ্ক আরও স্পষ্ট হয়।

অর্থাৎ উন্নয়ন কেবল নরম প্রভাবের হাতিয়ার নয়, বরং সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক শক্তি। যদি আমরা যুদ্ধবিমানকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখি কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুচ্ছ করি, ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অর্থ রাখি কিন্তু বিদ্যুৎ ও পানির জন্য না রাখি, তবে নিজেদেরই দুর্বল করছি।

লেক চাদ অববাহিকা থেকে ইরাকের শিক্ষা

আফ্রিকার লেক চাদ অববাহিকায় দীর্ঘদিন সামরিক অভিযান চালিয়েও চরমপন্থা থামানো যায়নি। কারণ বেকারত্ব কমেনি, রাষ্ট্রীয় সেবা ফিরেনি, মানুষের ভবিষ্যৎ তৈরি হয়নি। পরে যখন উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার হয়, তখন বাস্তুচ্যুত মানুষ ঘরে ফেরার সুযোগ পায়।

ইরাকের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। গুলি থামার পাশাপাশি যখন বিদ্যুৎ ফেরে, স্কুল ও হাসপাতাল খোলে, তখনই মানুষ ফিরে আসতে শুরু করে। উন্নয়ন মানুষকে থাকার কারণ দেয়, শুধু বেঁচে থাকার নয়।

আফ্রিকায় একের পর এক দেশে সামরিক অভ্যুত্থান, নেপথ্যে কি বিদেশি হস্তক্ষেপ?

বার্লিন প্রাচীর পতনের পরের অভিজ্ঞতা

বার্লিন প্রাচীর পতনের পর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগ পশ্চিমা বিশ্বকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যায়। যেখানে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে সংস্কারের আগে, সেখানে স্থিতি এসেছে। যেখানে ভারসাম্য উপেক্ষা করা হয়েছে, সেখানে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।

বার্লিন প্রাচীরের পতন - উইকিপিডিয়া

উন্নয়নই প্রথম প্রতিরক্ষা রেখা

নিরাপত্তা উন্নয়নের ফল নয়, বরং উন্নয়নই নিরাপত্তা সৃষ্টি করে। যখন রাষ্ট্র মৌলিক সেবা নিশ্চিত করে, তরুণদের কর্মসংস্থান দেয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তখন সহিংসতার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

স্বল্পমেয়াদি সংকটে সাড়া দেওয়া জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছাড়া স্থিতিশীলতা কাঠামোগতভাবে দুর্বল থেকে যায়। কঠোর শক্তি মানে শুধু প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা নয়, বরং আগাম প্রতিরোধের সক্ষমতা।

আজকের বাস্তবতায় উন্নয়নকে ভূরাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রস্থলে আনা আদর্শবাদ নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা। উন্নয়নে আগে বিনিয়োগ করা কিংবা পরে অস্থিরতার মূল্য চড়া সুদে পরিশোধ করা—পছন্দটি এখন নীতিনির্ধারকদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

উন্নয়নই চূড়ান্ত কঠোর শক্তি: নিরাপত্তার নতুন সমীকরণে বড় বার্তা

১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতির অস্থির সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সামরিক জোট, প্রতিরক্ষা বাজেট কিংবা প্রভাব বলয়ের বাইরে এসে স্পষ্ট হচ্ছে—উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার আসল ভিত্তি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আলোচনাগুলোয় ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, টেকসই অবকাঠামো এবং আস্থাভিত্তিক অংশীদারিত্ব।

নিরাপত্তা শুধু অস্ত্র নয়, প্রতিষ্ঠানের শক্তি

আজকের বিভক্ত বিশ্বে নিরাপত্তা মানে কেবল সামরিক সক্ষমতা নয়। বরং রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে শিক্ষা, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে পারছে, সেটিই নির্ধারণ করছে স্থিতিশীলতার মাত্রা। শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান সমাজকে ধাক্কা সামলাতে সক্ষম করে।

অনেক নীতিনির্ধারক এখনও উন্নয়ন সহায়তাকে দানখয়রাত হিসেবে দেখেন। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গিই দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের বীজ বপন করে। কারণ সহিংসতার মূল কারণগুলো উপেক্ষা করলে তার মূল্য দিতে হয় প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক অস্থিরতার মাধ্যমে।

Alexander De Croo explains why investments to alleviate poverty and shore  up institutions are as important as tanks and drones.  https://www.project-syndicate.org/commentary/development-is-hard-power-best -means-to-prevent-conflict-long-term-by-alexander ...

প্রতিরোধে বিনিয়োগই সর্বোচ্চ সাশ্রয়

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাত প্রতিরোধ ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করা প্রতি এক ডলার ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় একশ তিন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে। সামরিক অভিযান, মানবিক সহায়তা কিংবা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের খরচ—সব মিলিয়ে এই অঙ্ক আরও স্পষ্ট হয়।

অর্থাৎ উন্নয়ন কেবল নরম প্রভাবের হাতিয়ার নয়, বরং সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক শক্তি। যদি আমরা যুদ্ধবিমানকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখি কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুচ্ছ করি, ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অর্থ রাখি কিন্তু বিদ্যুৎ ও পানির জন্য না রাখি, তবে নিজেদেরই দুর্বল করছি।

লেক চাদ অববাহিকা থেকে ইরাকের শিক্ষা

আফ্রিকার লেক চাদ অববাহিকায় দীর্ঘদিন সামরিক অভিযান চালিয়েও চরমপন্থা থামানো যায়নি। কারণ বেকারত্ব কমেনি, রাষ্ট্রীয় সেবা ফিরেনি, মানুষের ভবিষ্যৎ তৈরি হয়নি। পরে যখন উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার হয়, তখন বাস্তুচ্যুত মানুষ ঘরে ফেরার সুযোগ পায়।

ইরাকের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। গুলি থামার পাশাপাশি যখন বিদ্যুৎ ফেরে, স্কুল ও হাসপাতাল খোলে, তখনই মানুষ ফিরে আসতে শুরু করে। উন্নয়ন মানুষকে থাকার কারণ দেয়, শুধু বেঁচে থাকার নয়।

আফ্রিকায় একের পর এক দেশে সামরিক অভ্যুত্থান, নেপথ্যে কি বিদেশি হস্তক্ষেপ?

বার্লিন প্রাচীর পতনের পরের অভিজ্ঞতা

বার্লিন প্রাচীর পতনের পর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগ পশ্চিমা বিশ্বকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যায়। যেখানে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে সংস্কারের আগে, সেখানে স্থিতি এসেছে। যেখানে ভারসাম্য উপেক্ষা করা হয়েছে, সেখানে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।

বার্লিন প্রাচীরের পতন - উইকিপিডিয়া

উন্নয়নই প্রথম প্রতিরক্ষা রেখা

নিরাপত্তা উন্নয়নের ফল নয়, বরং উন্নয়নই নিরাপত্তা সৃষ্টি করে। যখন রাষ্ট্র মৌলিক সেবা নিশ্চিত করে, তরুণদের কর্মসংস্থান দেয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তখন সহিংসতার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

স্বল্পমেয়াদি সংকটে সাড়া দেওয়া জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছাড়া স্থিতিশীলতা কাঠামোগতভাবে দুর্বল থেকে যায়। কঠোর শক্তি মানে শুধু প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা নয়, বরং আগাম প্রতিরোধের সক্ষমতা।

আজকের বাস্তবতায় উন্নয়নকে ভূরাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রস্থলে আনা আদর্শবাদ নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা। উন্নয়নে আগে বিনিয়োগ করা কিংবা পরে অস্থিরতার মূল্য চড়া সুদে পরিশোধ করা—পছন্দটি এখন নীতিনির্ধারকদের।