০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

তেলের বাজারে যুদ্ধের আগুন, ইরান সংকটে দাম লাফিয়ে ৮০ ডলার ছুঁইছুঁই

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর রোববার লেনদেনবহির্ভূত বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Oil jumps 10% on Iran conflict and could spike to $100 US a barrel, analysts  say | CBC News

হরমুজ প্রণালী ঘিরে শঙ্কা

বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের ২০ শতাংশের বেশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার মালিক, বড় তেল কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তেহরান সতর্কবার্তা দেওয়ার পর জাহাজ চলাচল কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সামরিক হামলা যেমন দামের ওপর প্রভাব ফেলছে, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। যদি এই নৌপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল থাকে, তাহলে বাজার খোলার পর তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল-জ্বালানি-প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্থগিত

ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত

এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য, যা মোট চাহিদার শূন্য দশমিক দুই শতাংশেরও কম। ফলে বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি পূরণে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তে স্বাগত রাশিয়ার, ঝুঁকিপূর্...

বিকল্প সরবরাহের সীমাবদ্ধতা

বিশ্লেষণ বলছে, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ও আবুধাবির পাইপলাইন ব্যবহার করে কিছু তেল সরানো সম্ভব হলেও, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দামে অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে ইরান - টাইমনিউজ বিডি

এশিয়ার দেশগুলোর প্রস্তুতি

ইরান সংকট ঘিরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও পরিশোধনাগারগুলো নিজেদের মজুত পর্যালোচনা শুরু করেছে। সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় বিকল্প রুট ও নতুন সরবরাহ উৎস খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত প্রয়োজনে রাশিয়া থেকে বেশি তেল আমদানির পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রভাব

চলতি বছরে ব্রেন্ট তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে পৌঁছে এটি জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। নতুন সংঘাতের জেরে সেই ঊর্ধ্বগতি আরও তীব্র হয়েছে। এখন বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি পুরোপুরি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও সামরিক উত্তেজনার গতিপ্রকৃতির দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

তেলের বাজারে যুদ্ধের আগুন, ইরান সংকটে দাম লাফিয়ে ৮০ ডলার ছুঁইছুঁই

০২:৫৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর রোববার লেনদেনবহির্ভূত বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Oil jumps 10% on Iran conflict and could spike to $100 US a barrel, analysts  say | CBC News

হরমুজ প্রণালী ঘিরে শঙ্কা

বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের ২০ শতাংশের বেশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার মালিক, বড় তেল কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তেহরান সতর্কবার্তা দেওয়ার পর জাহাজ চলাচল কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সামরিক হামলা যেমন দামের ওপর প্রভাব ফেলছে, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। যদি এই নৌপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল থাকে, তাহলে বাজার খোলার পর তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল-জ্বালানি-প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্থগিত

ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত

এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য, যা মোট চাহিদার শূন্য দশমিক দুই শতাংশেরও কম। ফলে বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি পূরণে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তে স্বাগত রাশিয়ার, ঝুঁকিপূর্...

বিকল্প সরবরাহের সীমাবদ্ধতা

বিশ্লেষণ বলছে, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ও আবুধাবির পাইপলাইন ব্যবহার করে কিছু তেল সরানো সম্ভব হলেও, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দামে অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে ইরান - টাইমনিউজ বিডি

এশিয়ার দেশগুলোর প্রস্তুতি

ইরান সংকট ঘিরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও পরিশোধনাগারগুলো নিজেদের মজুত পর্যালোচনা শুরু করেছে। সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় বিকল্প রুট ও নতুন সরবরাহ উৎস খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত প্রয়োজনে রাশিয়া থেকে বেশি তেল আমদানির পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রভাব

চলতি বছরে ব্রেন্ট তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে পৌঁছে এটি জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। নতুন সংঘাতের জেরে সেই ঊর্ধ্বগতি আরও তীব্র হয়েছে। এখন বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি পুরোপুরি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও সামরিক উত্তেজনার গতিপ্রকৃতির দিকে।