০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
শি জিনপিংয়ের নির্দেশনায় বদলে যাচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পদোন্নতির পদ্ধতি  ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি সাম্রাজ্যবাদ ফেরানোর ইঙ্গিত? বাংলাদেশীদের জন্য আমেরিকার অভিবাসী ভিসা বন্ধ করা হয়েছে   জার্মানিতে তেল-গ্যাস উৎপাদন ধস, রাশিয়া নির্ভরতা কাটাতেই বেড়েছে জ্বালানির খরচ ইরানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, খামেনেই নিহতের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল ভারতের অর্থনীতির উত্থান: জাপানকে ছাপিয়ে তৃতীয় বৃহৎ শক্তি হওয়ার দোরগোড়ায় শুকিয়ে যাওয়া নদী, চরে সবুজ স্বপ্ন: কুড়িগ্রামে কৃষির সম্ভাবনা, জেলেদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা হরমুজ প্রণালীতে হামলা—বিশ্ববাজারে দামের আগুন জ্বলার শঙ্কা ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, নেমে যাবে ইসরাইলের জিডিপি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল: ভারতের মুখোমুখি ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড

বিচারব্যবস্থায় ‘বিশ্বাস’ পুনর্গঠনে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি সরকার

দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার উচ্চ জনআকাঙ্ক্ষার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এখন তাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা জনগণের মধ্যে স্বস্তির বদলে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অর্থবহ সংস্কার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নতুন প্রশাসনের ওপর বর্তেছে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারে লেখা এক নিবন্ধে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সলিসিটর মো. আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, নতুন বিএনপি সরকার একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে সংশয়ের উত্তরাধিকার পেয়েছে। তাই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ভুলগুলো খোলামেলাভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে গ্রেপ্তার ১৫২১

আরিফুজ্জামান বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা বা ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের আড়ালে ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং প্রসিকিউশনের বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদানকারী আইনগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা ও সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে অপব্যবহার রোধ করা যায়। বিচারক নিয়োগ এবং শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়াকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব মামলা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো নীতিগতভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক নেতাদের সংযম দেখাতে হবে। চলমান মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা বা তদন্তকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তবে সীমারেখার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী নেতৃত্ব টেকসই সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে।”

এই আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব কম সময়েই শান্ত ছিল। তবে ব্যাপক গ্রেপ্তার, বিতর্কিত বিচার এবং রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মিশ্রণ ধীরে ধীরে জনগণের আস্থা ক্ষয় করেছে।

আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, আস্থা পুনরুদ্ধার বক্তৃতা বা আইন প্রণয়নের অঙ্ক কষে সম্ভব নয়। এটি ধীরে ধীরে, মামলা ধরে ধরে গড়ে উঠবে—যখন নাগরিকেরা প্রত্যক্ষ করবেন যে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল ঘোষণায় নয়, বাস্তব চর্চায় প্রতিফলিত হতে হবে।

তিনি বলেন, “সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সহজেই আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করা যায়, কিন্তু তা দিয়ে জনগণের বিশ্বাস আদায় করা যায় না। সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হয় দৃশ্যমান ন্যায়পরায়ণতা, প্রক্রিয়াগত কঠোরতা এবং অতীতের সেই ধারা থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতির মাধ্যমে—যে ধারা বহু বাংলাদেশিকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে, বিচার সত্যিই অন্ধ ছিল কি না, নাকি পরিস্থিতি ভেদে চোখ বাঁধা ছিল।”

আরিফুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকার যদি আইনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে পারে, তবে তা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের মৌলিক আদর্শকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে—যে আদর্শে “ক্ষমতা নীতির অধীন, এবং আদালত শক্তিশালীদের রক্ষা করার জন্য নয়, বরং সবার অধিকার সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান।”

জনপ্রিয় সংবাদ

শি জিনপিংয়ের নির্দেশনায় বদলে যাচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পদোন্নতির পদ্ধতি 

বিচারব্যবস্থায় ‘বিশ্বাস’ পুনর্গঠনে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি সরকার

০৩:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার উচ্চ জনআকাঙ্ক্ষার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এখন তাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা জনগণের মধ্যে স্বস্তির বদলে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অর্থবহ সংস্কার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নতুন প্রশাসনের ওপর বর্তেছে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারে লেখা এক নিবন্ধে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সলিসিটর মো. আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, নতুন বিএনপি সরকার একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে সংশয়ের উত্তরাধিকার পেয়েছে। তাই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ভুলগুলো খোলামেলাভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে গ্রেপ্তার ১৫২১

আরিফুজ্জামান বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা বা ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের আড়ালে ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং প্রসিকিউশনের বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদানকারী আইনগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা ও সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে অপব্যবহার রোধ করা যায়। বিচারক নিয়োগ এবং শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়াকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব মামলা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো নীতিগতভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক নেতাদের সংযম দেখাতে হবে। চলমান মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা বা তদন্তকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তবে সীমারেখার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী নেতৃত্ব টেকসই সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে।”

এই আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব কম সময়েই শান্ত ছিল। তবে ব্যাপক গ্রেপ্তার, বিতর্কিত বিচার এবং রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মিশ্রণ ধীরে ধীরে জনগণের আস্থা ক্ষয় করেছে।

আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, আস্থা পুনরুদ্ধার বক্তৃতা বা আইন প্রণয়নের অঙ্ক কষে সম্ভব নয়। এটি ধীরে ধীরে, মামলা ধরে ধরে গড়ে উঠবে—যখন নাগরিকেরা প্রত্যক্ষ করবেন যে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল ঘোষণায় নয়, বাস্তব চর্চায় প্রতিফলিত হতে হবে।

তিনি বলেন, “সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সহজেই আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করা যায়, কিন্তু তা দিয়ে জনগণের বিশ্বাস আদায় করা যায় না। সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হয় দৃশ্যমান ন্যায়পরায়ণতা, প্রক্রিয়াগত কঠোরতা এবং অতীতের সেই ধারা থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতির মাধ্যমে—যে ধারা বহু বাংলাদেশিকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে, বিচার সত্যিই অন্ধ ছিল কি না, নাকি পরিস্থিতি ভেদে চোখ বাঁধা ছিল।”

আরিফুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকার যদি আইনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে পারে, তবে তা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের মৌলিক আদর্শকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে—যে আদর্শে “ক্ষমতা নীতির অধীন, এবং আদালত শক্তিশালীদের রক্ষা করার জন্য নয়, বরং সবার অধিকার সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান।”