০৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র ইরানের হুশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীতে কোন বিদেশী বাহিনী এলেই হামলা চালানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদনে ধস, এপ্রিলেই সংকোচনে শিল্পখাত আল কাদসিয়ার ধাক্কায় থামল আল নাসরের জয়ের ধারা, শিরোপা দৌড়ে অনিশ্চয়তা রোনালদোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জন্য এক দ্বীপ: সেন্ট হেলেনা আবিষ্কার পাঁচ রাজ্যের ভোটে নাটকীয় পালাবদল: বাংলায় বিজেপির ঝড়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক, কেরালায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন টোকিওর লক্ষ্য: এআইকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ শক্তিতে বিশ্বনেতা হওয়ার দৌড় ১০০ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধের অভিযোগ, কর্মীদের কেন্দ্রে থাকার আহ্বান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসছে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থান কর্মসূচী: পেনশন পুনঃস্থাপনসহ ভাতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

বিচারব্যবস্থায় ‘বিশ্বাস’ পুনর্গঠনে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি সরকার

দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার উচ্চ জনআকাঙ্ক্ষার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এখন তাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা জনগণের মধ্যে স্বস্তির বদলে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অর্থবহ সংস্কার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নতুন প্রশাসনের ওপর বর্তেছে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারে লেখা এক নিবন্ধে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সলিসিটর মো. আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, নতুন বিএনপি সরকার একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে সংশয়ের উত্তরাধিকার পেয়েছে। তাই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ভুলগুলো খোলামেলাভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে গ্রেপ্তার ১৫২১

আরিফুজ্জামান বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা বা ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের আড়ালে ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং প্রসিকিউশনের বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদানকারী আইনগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা ও সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে অপব্যবহার রোধ করা যায়। বিচারক নিয়োগ এবং শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়াকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব মামলা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো নীতিগতভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক নেতাদের সংযম দেখাতে হবে। চলমান মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা বা তদন্তকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তবে সীমারেখার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী নেতৃত্ব টেকসই সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে।”

এই আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব কম সময়েই শান্ত ছিল। তবে ব্যাপক গ্রেপ্তার, বিতর্কিত বিচার এবং রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মিশ্রণ ধীরে ধীরে জনগণের আস্থা ক্ষয় করেছে।

আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, আস্থা পুনরুদ্ধার বক্তৃতা বা আইন প্রণয়নের অঙ্ক কষে সম্ভব নয়। এটি ধীরে ধীরে, মামলা ধরে ধরে গড়ে উঠবে—যখন নাগরিকেরা প্রত্যক্ষ করবেন যে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল ঘোষণায় নয়, বাস্তব চর্চায় প্রতিফলিত হতে হবে।

তিনি বলেন, “সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সহজেই আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করা যায়, কিন্তু তা দিয়ে জনগণের বিশ্বাস আদায় করা যায় না। সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হয় দৃশ্যমান ন্যায়পরায়ণতা, প্রক্রিয়াগত কঠোরতা এবং অতীতের সেই ধারা থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতির মাধ্যমে—যে ধারা বহু বাংলাদেশিকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে, বিচার সত্যিই অন্ধ ছিল কি না, নাকি পরিস্থিতি ভেদে চোখ বাঁধা ছিল।”

আরিফুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকার যদি আইনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে পারে, তবে তা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের মৌলিক আদর্শকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে—যে আদর্শে “ক্ষমতা নীতির অধীন, এবং আদালত শক্তিশালীদের রক্ষা করার জন্য নয়, বরং সবার অধিকার সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান।”

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতাজুড়ে মিশ্র জনমত, গণনার দিনে এগিয়ে বিজেপি—তবু এলাকায় এলাকায় ভিন্ন চিত্র

বিচারব্যবস্থায় ‘বিশ্বাস’ পুনর্গঠনে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি সরকার

০৩:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার উচ্চ জনআকাঙ্ক্ষার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এখন তাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা জনগণের মধ্যে স্বস্তির বদলে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অর্থবহ সংস্কার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নতুন প্রশাসনের ওপর বর্তেছে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারে লেখা এক নিবন্ধে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সলিসিটর মো. আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, নতুন বিএনপি সরকার একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে সংশয়ের উত্তরাধিকার পেয়েছে। তাই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ভুলগুলো খোলামেলাভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে গ্রেপ্তার ১৫২১

আরিফুজ্জামান বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা বা ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের আড়ালে ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং প্রসিকিউশনের বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদানকারী আইনগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা ও সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে অপব্যবহার রোধ করা যায়। বিচারক নিয়োগ এবং শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়াকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব মামলা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো নীতিগতভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক নেতাদের সংযম দেখাতে হবে। চলমান মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা বা তদন্তকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তবে সীমারেখার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী নেতৃত্ব টেকসই সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে।”

এই আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব কম সময়েই শান্ত ছিল। তবে ব্যাপক গ্রেপ্তার, বিতর্কিত বিচার এবং রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মিশ্রণ ধীরে ধীরে জনগণের আস্থা ক্ষয় করেছে।

আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, আস্থা পুনরুদ্ধার বক্তৃতা বা আইন প্রণয়নের অঙ্ক কষে সম্ভব নয়। এটি ধীরে ধীরে, মামলা ধরে ধরে গড়ে উঠবে—যখন নাগরিকেরা প্রত্যক্ষ করবেন যে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল ঘোষণায় নয়, বাস্তব চর্চায় প্রতিফলিত হতে হবে।

তিনি বলেন, “সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সহজেই আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করা যায়, কিন্তু তা দিয়ে জনগণের বিশ্বাস আদায় করা যায় না। সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হয় দৃশ্যমান ন্যায়পরায়ণতা, প্রক্রিয়াগত কঠোরতা এবং অতীতের সেই ধারা থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতির মাধ্যমে—যে ধারা বহু বাংলাদেশিকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে, বিচার সত্যিই অন্ধ ছিল কি না, নাকি পরিস্থিতি ভেদে চোখ বাঁধা ছিল।”

আরিফুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকার যদি আইনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে পারে, তবে তা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের মৌলিক আদর্শকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে—যে আদর্শে “ক্ষমতা নীতির অধীন, এবং আদালত শক্তিশালীদের রক্ষা করার জন্য নয়, বরং সবার অধিকার সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান।”