০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি সাম্রাজ্যবাদ ফেরানোর ইঙ্গিত? বাংলাদেশীদের জন্য আমেরিকার অভিবাসী ভিসা বন্ধ করা হয়েছে   জার্মানিতে তেল-গ্যাস উৎপাদন ধস, রাশিয়া নির্ভরতা কাটাতেই বেড়েছে জ্বালানির খরচ ইরানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, খামেনেই নিহতের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল ভারতের অর্থনীতির উত্থান: জাপানকে ছাপিয়ে তৃতীয় বৃহৎ শক্তি হওয়ার দোরগোড়ায় শুকিয়ে যাওয়া নদী, চরে সবুজ স্বপ্ন: কুড়িগ্রামে কৃষির সম্ভাবনা, জেলেদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা হরমুজ প্রণালীতে হামলা—বিশ্ববাজারে দামের আগুন জ্বলার শঙ্কা ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, নেমে যাবে ইসরাইলের জিডিপি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল: ভারতের মুখোমুখি ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার হবার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় কাঁপছে বিশ্ববাজার, ইরানের ক্ষমতার অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের বড় আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত হঠাৎ করেই বিশ্ববাজারের প্রান্তিক ঝুঁকি থেকে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে। ইরানে সম্ভাব্য ক্ষমতার লড়াই এবং দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, তেলের দাম, এমনকি মূল্যস্ফীতির ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

Investors brace for a bigger backlash from Middle East war - BusinessWorld  Online

ইরানে ক্ষমতার অনিশ্চয়তা, বাজারে অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় শহরগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বহু বিমান সংস্থা ফ্লাইট স্থগিত করেছে, আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা জটিল এবং মতাদর্শভিত্তিক। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাবও অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে এখন কে ক্ষমতায় আসবে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তাই বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও নিরাপদ বিনিয়োগের প্রশ্ন

চলতি বছরে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে।

সোনা ইতোমধ্যে টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখিয়েছে এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ২২ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের বন্ডের ফলন ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তেলের দাম আরও বাড়লে বন্ড কি আদৌ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে থাকবে?

Oil markets brace as Middle East tensions escalate

বাজার কি ঝুঁকি কম ধরে নিয়েছে?

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাজার হয়তো পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখছে। অতীতে স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের মতো এবারও প্রভাব সীমিত থাকবে—এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাজ করছে। কিন্তু যদি সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রি শুরু হতে পারে।

কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, শেয়ারবাজারে সাময়িক পতন দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। ঝুঁকি ও সম্ভাব্য লাভের ভারসাম্য এখনো স্পষ্ট নয়।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

আগামী সপ্তাহে বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, সংঘাত সীমিত থাকলে তেলের দাম স্থিতিশীল হবে এবং শেয়ারবাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আবার অন্যদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

Stocks are at risk from the Iran-Israel conflict. Here's how quickly the  S&P rebounded from the greatest shocks since WWII.

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখন কেবল আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং বিশ্ববাজারের কেন্দ্রীয় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তাই প্রতিটি কূটনৈতিক বার্তা ও সামরিক পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি সাম্রাজ্যবাদ ফেরানোর ইঙ্গিত?

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় কাঁপছে বিশ্ববাজার, ইরানের ক্ষমতার অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের বড় আশঙ্কা

০৩:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত হঠাৎ করেই বিশ্ববাজারের প্রান্তিক ঝুঁকি থেকে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে। ইরানে সম্ভাব্য ক্ষমতার লড়াই এবং দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, তেলের দাম, এমনকি মূল্যস্ফীতির ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

Investors brace for a bigger backlash from Middle East war - BusinessWorld  Online

ইরানে ক্ষমতার অনিশ্চয়তা, বাজারে অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় শহরগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বহু বিমান সংস্থা ফ্লাইট স্থগিত করেছে, আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা জটিল এবং মতাদর্শভিত্তিক। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাবও অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে এখন কে ক্ষমতায় আসবে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তাই বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও নিরাপদ বিনিয়োগের প্রশ্ন

চলতি বছরে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে।

সোনা ইতোমধ্যে টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখিয়েছে এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ২২ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের বন্ডের ফলন ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তেলের দাম আরও বাড়লে বন্ড কি আদৌ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে থাকবে?

Oil markets brace as Middle East tensions escalate

বাজার কি ঝুঁকি কম ধরে নিয়েছে?

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাজার হয়তো পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখছে। অতীতে স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের মতো এবারও প্রভাব সীমিত থাকবে—এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাজ করছে। কিন্তু যদি সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রি শুরু হতে পারে।

কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, শেয়ারবাজারে সাময়িক পতন দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। ঝুঁকি ও সম্ভাব্য লাভের ভারসাম্য এখনো স্পষ্ট নয়।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

আগামী সপ্তাহে বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, সংঘাত সীমিত থাকলে তেলের দাম স্থিতিশীল হবে এবং শেয়ারবাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আবার অন্যদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

Stocks are at risk from the Iran-Israel conflict. Here's how quickly the  S&P rebounded from the greatest shocks since WWII.

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখন কেবল আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং বিশ্ববাজারের কেন্দ্রীয় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তাই প্রতিটি কূটনৈতিক বার্তা ও সামরিক পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।