০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি সাম্রাজ্যবাদ ফেরানোর ইঙ্গিত? বাংলাদেশীদের জন্য আমেরিকার অভিবাসী ভিসা বন্ধ করা হয়েছে   জার্মানিতে তেল-গ্যাস উৎপাদন ধস, রাশিয়া নির্ভরতা কাটাতেই বেড়েছে জ্বালানির খরচ ইরানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, খামেনেই নিহতের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল ভারতের অর্থনীতির উত্থান: জাপানকে ছাপিয়ে তৃতীয় বৃহৎ শক্তি হওয়ার দোরগোড়ায় শুকিয়ে যাওয়া নদী, চরে সবুজ স্বপ্ন: কুড়িগ্রামে কৃষির সম্ভাবনা, জেলেদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা হরমুজ প্রণালীতে হামলা—বিশ্ববাজারে দামের আগুন জ্বলার শঙ্কা ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, নেমে যাবে ইসরাইলের জিডিপি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল: ভারতের মুখোমুখি ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার হবার আশঙ্কা

তেলের বাজারে যুদ্ধের ছায়া, অল্প উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওপেক প্লাসের

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত যখন তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা দিচ্ছে, ঠিক সেই সময় সামান্য উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। এপ্রিল মাস থেকে দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে জোটের বৈঠক শেষে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৃদ্ধি বাজারের অস্থিরতা থামাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে।

উৎপাদন বাড়ালেও উদ্বেগ কাটছে না

সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই রুট সচল না হলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় ওপেক প্লাসের ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধি বৈশ্বিক সরবরাহের শূন্য দশমিক দুই শতাংশেরও কম। ফলে বাস্তবে বাজারে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, প্রকৃত তেল সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম এমন দেশের সংখ্যা খুবই কম। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কিছুটা বাড়তি সক্ষমতা রাখলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রপ্তানি অব্যাহত রাখা তাদের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

OPEC+ agrees modest oil output boost even as US war on Iran disrupts  shipments

সৌদি প্রস্তুতি ও সীমিত সক্ষমতা

সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব আগাম প্রস্তুতি হিসেবে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ওপেক প্লাসের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এখন আগের তুলনায় অনেক কম। এই সীমাবদ্ধতাই বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি

সংঘাতের জেরে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুক্রবার তা ব্যারেলপ্রতি তেহাত্তর ডলারে পৌঁছায়, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। রোববার লেনদেনের বাইরে দামে আরও আট থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে বলে বাজার সূত্রে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি একশ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের প্রকৃত দিকনির্দেশ নির্ভর করবে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর, শুধুমাত্র ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর নয়।

Oil prices ease as US-Iran talks, OPEC+ plans spur supply concerns | Reuters

আট দেশের সিদ্ধান্ত

রোববারের বৈঠকে অংশ নেয় সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান, কুয়েত, ইরাক, আলজেরিয়া ও ওমান। গত বছর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা প্রায় দুই দশমিক নয় মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছিল। তবে মৌসুমি চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাস উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়।

Russia Sides With UAE Over Iran's Persian Gulf Islands

এপ্রিল থেকে আবারও কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি সাম্রাজ্যবাদ ফেরানোর ইঙ্গিত?

তেলের বাজারে যুদ্ধের ছায়া, অল্প উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওপেক প্লাসের

০৩:১৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত যখন তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা দিচ্ছে, ঠিক সেই সময় সামান্য উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। এপ্রিল মাস থেকে দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে জোটের বৈঠক শেষে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৃদ্ধি বাজারের অস্থিরতা থামাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে।

উৎপাদন বাড়ালেও উদ্বেগ কাটছে না

সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই রুট সচল না হলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় ওপেক প্লাসের ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধি বৈশ্বিক সরবরাহের শূন্য দশমিক দুই শতাংশেরও কম। ফলে বাস্তবে বাজারে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, প্রকৃত তেল সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম এমন দেশের সংখ্যা খুবই কম। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কিছুটা বাড়তি সক্ষমতা রাখলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রপ্তানি অব্যাহত রাখা তাদের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

OPEC+ agrees modest oil output boost even as US war on Iran disrupts  shipments

সৌদি প্রস্তুতি ও সীমিত সক্ষমতা

সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব আগাম প্রস্তুতি হিসেবে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ওপেক প্লাসের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এখন আগের তুলনায় অনেক কম। এই সীমাবদ্ধতাই বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি

সংঘাতের জেরে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুক্রবার তা ব্যারেলপ্রতি তেহাত্তর ডলারে পৌঁছায়, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। রোববার লেনদেনের বাইরে দামে আরও আট থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে বলে বাজার সূত্রে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি একশ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের প্রকৃত দিকনির্দেশ নির্ভর করবে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর, শুধুমাত্র ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর নয়।

Oil prices ease as US-Iran talks, OPEC+ plans spur supply concerns | Reuters

আট দেশের সিদ্ধান্ত

রোববারের বৈঠকে অংশ নেয় সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান, কুয়েত, ইরাক, আলজেরিয়া ও ওমান। গত বছর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা প্রায় দুই দশমিক নয় মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছিল। তবে মৌসুমি চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাস উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়।

Russia Sides With UAE Over Iran's Persian Gulf Islands

এপ্রিল থেকে আবারও কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।