০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই

ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন সহজ নয়, নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষজ্ঞর মতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করেছিল, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে তেহরানে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাবে। কিন্তু গোয়েন্দা বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে পরিস্থিতি।

শীর্ষ নেতৃত্বে আঘাত, কিন্তু ক্ষমতার শূন্যতা কতটা?

হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছিল। একটি মূল্যায়নে বলা হয়, সম্পূর্ণ শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তারা হয়তো পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু নমনীয়তা দেখাতে পারে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনামূলক সমঝোতার পথ নিতে পারে, তবে প্রকৃত ক্ষমতা তাদের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকবে।

খামেনির মৃত্যুর ফলে সরকার কার্যত শীর্ষহীন হলেও, নতুন যে ধর্মীয় নেতা আসবেন তিনি কঠোর অবস্থানেরই হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার হাতে প্রকৃত ক্ষমতা কতটা থাকবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের আহ্বান ও ঝুঁকির রাজনীতি

হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ইরানি জনগণকে নিজ সরকারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তই হয়তো প্রজন্মের পর প্রজন্মে একমাত্র সুযোগ।

তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই অনেকে মনে করছেন, ইরানে সেনা না পাঠিয়ে কেবল আকাশ হামলার মাধ্যমে শাসন পরিবর্তন ঘটানো কঠিন। স্থলবাহিনী ছাড়া পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সীমিত থাকবে।

মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ইরানের ভেতরে ও বাইরে সংগঠিত বিরোধী শক্তি এখনো দুর্বল। তার মতে, শাসন পরিবর্তন অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া এবং নতুন কোনো গোয়েন্দা তথ্য সেই বাস্তবতা বদলায়নি।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ওয়ার্নার আরও বলেন, খামেনি পারমাণবিক কর্মসূচির পক্ষে দৃঢ় থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেননি। নতুন নেতৃত্ব সেই অবস্থান বদলাতে পারে কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ধর্মীয় উত্তরাধিকার শৃঙ্খলের বাইরে থেকে কেউ ক্ষমতায় এলে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিতে পারেন। তবে বাস্তবে ক্ষমতার মূল কেন্দ্র বিপ্লবী গার্ডের হাতেই থাকতে পারে, যারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেবে।

তাৎক্ষণিক গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা কতটা?

এ মুহূর্তে ইরানে তাৎক্ষণিক গণঅভ্যুত্থানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরং প্রতিশোধের আহ্বান ও জাতীয়তাবাদী আবেগ জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পতাকা ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার ক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কাঠামো ও দমননীতি দ্রুত ভেঙে পড়বে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে বলে দাবি করছে। অন্যদিকে, অপ্রত্যাশিত বিশৃঙ্খলা, প্রতিশোধমূলক হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে।

ইরানে শাসন পরিবর্তন আদৌ সম্ভব কি না, নাকি ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল নতুন রূপ নেবে—সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

(সূত্র নিই ইয়র্ক টাইমস )

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ

ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন সহজ নয়, নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষজ্ঞর মতে

০৫:১৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করেছিল, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে তেহরানে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাবে। কিন্তু গোয়েন্দা বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে পরিস্থিতি।

শীর্ষ নেতৃত্বে আঘাত, কিন্তু ক্ষমতার শূন্যতা কতটা?

হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছিল। একটি মূল্যায়নে বলা হয়, সম্পূর্ণ শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তারা হয়তো পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু নমনীয়তা দেখাতে পারে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনামূলক সমঝোতার পথ নিতে পারে, তবে প্রকৃত ক্ষমতা তাদের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকবে।

খামেনির মৃত্যুর ফলে সরকার কার্যত শীর্ষহীন হলেও, নতুন যে ধর্মীয় নেতা আসবেন তিনি কঠোর অবস্থানেরই হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার হাতে প্রকৃত ক্ষমতা কতটা থাকবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের আহ্বান ও ঝুঁকির রাজনীতি

হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ইরানি জনগণকে নিজ সরকারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তই হয়তো প্রজন্মের পর প্রজন্মে একমাত্র সুযোগ।

তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই অনেকে মনে করছেন, ইরানে সেনা না পাঠিয়ে কেবল আকাশ হামলার মাধ্যমে শাসন পরিবর্তন ঘটানো কঠিন। স্থলবাহিনী ছাড়া পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সীমিত থাকবে।

মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ইরানের ভেতরে ও বাইরে সংগঠিত বিরোধী শক্তি এখনো দুর্বল। তার মতে, শাসন পরিবর্তন অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া এবং নতুন কোনো গোয়েন্দা তথ্য সেই বাস্তবতা বদলায়নি।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ওয়ার্নার আরও বলেন, খামেনি পারমাণবিক কর্মসূচির পক্ষে দৃঢ় থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেননি। নতুন নেতৃত্ব সেই অবস্থান বদলাতে পারে কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ধর্মীয় উত্তরাধিকার শৃঙ্খলের বাইরে থেকে কেউ ক্ষমতায় এলে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিতে পারেন। তবে বাস্তবে ক্ষমতার মূল কেন্দ্র বিপ্লবী গার্ডের হাতেই থাকতে পারে, যারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেবে।

তাৎক্ষণিক গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা কতটা?

এ মুহূর্তে ইরানে তাৎক্ষণিক গণঅভ্যুত্থানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরং প্রতিশোধের আহ্বান ও জাতীয়তাবাদী আবেগ জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পতাকা ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার ক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কাঠামো ও দমননীতি দ্রুত ভেঙে পড়বে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে বলে দাবি করছে। অন্যদিকে, অপ্রত্যাশিত বিশৃঙ্খলা, প্রতিশোধমূলক হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে।

ইরানে শাসন পরিবর্তন আদৌ সম্ভব কি না, নাকি ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল নতুন রূপ নেবে—সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

(সূত্র নিই ইয়র্ক টাইমস )