ইরানের রোববারের ‘নির্বিচার ও অসম’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। তিন দেশের নেতারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে হামলার উৎসস্থল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারসহ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই-৩ জোটের যৌথ বিবৃতি
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে নিয়ে গঠিত তথাকথিত ই-৩ জোট এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা আঞ্চলিক স্বার্থ ও মিত্রদের সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা ছিল ‘নির্বিচার ও মাত্রাতিরিক্ত’, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
নেতারা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন হামলা ঠেকানো এবং প্রতিরক্ষা জোরদার করাই হবে মূল লক্ষ্য।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রোববার এক ভিডিও বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট অনুরোধে সাড়া দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, ইরানের গুদামঘর বা উৎক্ষেপণস্থলে সংরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে সীমিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
স্টারমার জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরান যাতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে, সে উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য এই অনুরোধ মঞ্জুর করেছে। তার ভাষায়, এটি একটি নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হামলার পর ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিমা জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ারও ইঙ্গিত দেয়। এখন নজর থাকবে, ইরান এ ঘোষণার জবাবে কী অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















