মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে অঞ্চল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান হামলা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে একাধিক দেশ বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেসব দেশে মার্কিন নাগরিকরা অবস্থান করছেন, সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থাকলে এই মুহূর্তেই সেগুলো ব্যবহার করে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোন কোন দেশ ঝুঁকিপূর্ণ
পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, বাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন—এই দেশগুলোতে বর্তমানে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সতর্কবার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একাধিক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আক্রমণের ঘটনাও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা হামলার আশঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন মনে করছে, পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল ও সহিংস হয়ে উঠতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জরুরি সহায়তা ও যোগাযোগ
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব মার্কিন নাগরিক বাণিজ্যিক উপায়ে দেশত্যাগে সহায়তা প্রয়োজন মনে করছেন, তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা জরুরি যোগাযোগ নম্বর চালু রয়েছে। বিদেশে অবস্থানকারীদের জন্য পৃথক নম্বর এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থানকারীদের জন্য আলাদা নম্বর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিকটবর্তী মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। সে কারণেই মার্কিন নাগরিকদের প্রতি ‘এই মুহূর্তে এলাকা ছাড়ুন’ নির্দেশকে উচ্চমাত্রার সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















