ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কয়েকগুণ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ এফবিআই কর্মকর্তা।
তেহরানে বিস্ফোরণ, আতঙ্কের আবহ
সম্প্রতি তেহরানে এক বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই উত্তেজনা নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের আবহে বিদেশি বন্দিদের অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

প্রতিশোধের শঙ্কা বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের হোস্টেজ রিকভারি ফিউশন সেলের সাবেক প্রধান কিয়েরান র্যামসি বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের কারণে ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের জন্য উদ্বেগ বহুগুণ বেড়েছে। তার মতে, সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।
র্যামসি বর্তমানে গ্লোবাল রিচ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন। সংস্থাটি কামরান হেকমতির মুক্তির দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছে। ৭০ বছর বয়সী হেকমতিকে গত বছর ইরান আটক করে। এক দশকেরও বেশি আগে ছেলের বার মিৎসভা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইসরায়েল সফরের অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এভিন কারাগারে অনিশ্চয়তা
হেকমতি তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে বন্দি আছেন। গত বছরের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এই কারাগারেও হামলা হয়েছিল। র্যামসি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভিন কারাগারে আবার হামলা হলে তার নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, একজন মার্কিন নাগরিক ও ইহুদি হওয়ার কারণে কারারক্ষী বা অন্য বন্দিদের প্রতিশোধমূলক আচরণের শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কূটনৈতিক আলোচনাই কি সমাধান?
র্যামসি আশা প্রকাশ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়, তাহলে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে সামনে আসতে পারে। তার ভাষায়, এটি হতে পারে উত্তেজনা কমানোর সহজ পথ।
তিনি জানান, শুধু তার সংস্থাই নয়, অন্যান্য বন্দি পরিবারের উপদেষ্টারাও একই দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন জিম্মি বা আটক নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়—এমন বিশ্বাস থেকেই এই উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
অন্তত ছয় মার্কিন নাগরিক আটক
র্যামসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ইরানে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক রেজা ভ্যালিজাদেহ। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার ইরানকে ‘ভুলভাবে আটক রাখার পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের ভবিষ্যৎ এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















