সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সন্দেহভাজন দুটি ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে। হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস অঞ্চলে ‘আমেরিকান রাজনৈতিক কেন্দ্র’ ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সৌদি আরবে দূতাবাসে ড্রোন হামলা
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানায়, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সন্দেহভাজন দুটি ইরানি ড্রোন আঘাত করে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আরও দুটি ড্রোন দূতাবাসের ভেতর বা আশপাশে আঘাত হানে বলেও জানা গেছে।

আইআরজিসির হুমকি ও বার্তা
হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা অঞ্চলে অবস্থিত ‘আমেরিকান রাজনৈতিক কেন্দ্র’ ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের দাবি, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বিস্ফোরণ সেই পদক্ষেপেরই অংশ।
এই ঘোষণাকে অনেকেই সরাসরি বার্তা হিসেবে দেখছেন, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে জবাব দেবে তা খুব শিগগিরই জানা যাবে। তাঁর এই মন্তব্য সম্ভাব্য পাল্টা হামলা বা কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্য দূতাবাসেও হামলা
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দূতাবাস ছাড়াও অঞ্চলে থাকা একাধিক মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও রোববার ও সোমবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন জানায়, জেদ্দা, রিয়াদ ও ধাহরানে ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। কূটনৈতিক ও সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















