যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের ওপর শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালালেও এখনো পূর্ণমাত্রার আঘাত শুরু হয়নি—এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বড় ধরনের হামলা বা ‘বড় ঢেউ’ এখনো আসেনি, সেটি শিগগিরই শুরু হতে পারে।
যুদ্ধের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য সময়কাল
সোমবার সকালে দেওয়া নয় মিনিটের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী অত্যন্ত কার্যকরভাবে অভিযান চালাচ্ছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সেরা এবং সেটিই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে।
যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হোক তিনি চান না। তার ধারণা ছিল, চার সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সময়সূচির চেয়েও কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে জানান, সামনে পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে। এখনো কঠোরতম আঘাত হানা শুরু হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানি জনগণ ও নিরাপত্তা বার্তা
ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করছে কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্প সংক্ষিপ্তভাবে ‘হ্যাঁ’ বলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে ইরানের নাগরিকদের ঘরের ভেতরে থাকা উচিত, কারণ বাইরে নিরাপদ নয় এবং পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
আরব দেশগুলোতে ইরানের হামলা: অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশে হামলা। তিনি বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করেন।
তার দাবি, শুরুতে এসব দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায়নি। কিন্তু ইরানের হামলার পর তারা সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধে নেমেছে। হোটেল ও আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় এসব দেশের নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ওই দেশগুলোর নেতারা কঠোর ও বিচক্ষণ।

পারমাণবিক ইস্যু ও নেতৃত্ব সংকট
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। তার মতে, বহু বছর ধরে এই হুমকির কারণে অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ৪৯ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এতে দেশটির নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, এখন দেশটিতে কে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
আলোচনা ব্যর্থ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ
ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তার অভিযোগ, প্রতিবার নতুন প্রস্তাব দেওয়া হলে ইরান আগের অবস্থান থেকে সরে গেছে।
বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে ইরান রাজি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর অবস্থা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামরিক পদক্ষেপই সমাধান?
ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপই কার্যকর পথ। তিনি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর বহু হামলা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ৪৭ বছরে ইরান বা ইরান-সমর্থিত হামলার একটি তালিকা প্রস্তুত করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ।
পূর্ববর্তী অভিযান ও বর্তমান কৌশল
ট্রাম্প ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, সেটি ছিল একটি বড় পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো মার্কিন হামলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তখন ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ওই চুক্তি ইরানকে শক্তিশালী করেছে এবং সেটি বোমা তৈরির পথ তৈরি করেছিল।
সাক্ষাৎকারের শেষে ট্রাম্প পুনরায় বলেন, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে রয়েছে এবং বড় আঘাত এখনো বাকি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















