যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুরের ঢাকা সফর ঘিরে নতুন করে জোরালো হচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক এই শীর্ষ কর্মকর্তা দিল্লি সফর শেষ করে ঢাকায় আসছেন দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর। দুই দিনের এ সফরে তিনি নতুন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় জানান, সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করে আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদারে আগ্রহী বলেও জানানো হয়েছে।

দিল্লি সফর শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক বার্তা
এস. পল কাপুর গত বছরের ২২ অক্টোবর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ঢাকায় আসার আগে তিনি দিল্লিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে দক্ষিণ এশিয়া এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দিল্লি ও ঢাকার ধারাবাহিক সফরকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের বার্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী উন্নতমানের মার্কিন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে। দুই দেশের সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও একটি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতেই এই অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্পর্কের নতুন গতি
ঢাকায় কাপুরের এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন গতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন শুধু দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক প্রেক্ষাপটে তা নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















