ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের বিস্তার ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইরান থেকে শত শত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে ঢুকছেন। সীমান্ত এলাকায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, আর জ্বালানি স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
কাপিকয় সীমান্তে ভিড়
তুরস্কের ভান প্রদেশের কাপিকয় সীমান্ত গেটে সোমবার বিকেলে ইরানি নাগরিকদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। সকালের দিকে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই দেশের মধ্যে তিনটি সীমান্ত গেটে একদিনের যাত্রী চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কেবল তুরস্কের নাগরিক ও তৃতীয় দেশের নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল।
তবে দুপুরের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তুষারঢাকা পাহাড় ঘেরা সীমান্তপথ দিয়ে অনেক ইরানিকে তুরস্কে ঢুকতে দেখা যায়। অনেকে হাতে ট্রলি ও স্যুটকেস নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে শহরের দিকে যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকেন।

তেহরানে আতঙ্ক, তবু স্বাভাবিক জীবনের চেষ্টা
তেহরান থেকে আসা এক ব্যক্তি জানান, রাজধানীতে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। বোমা বিস্ফোরণের শব্দে মানুষ আতঙ্কিত। তবে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত পড়েনি বলেও তিনি দাবি করেন। যুদ্ধের প্রথম দিন তিনি প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী কিনে রাখেন, কিন্তু দোকানপাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
কাজভিন অঞ্চলের এক ইরানি আজেরি নাগরিক বলেন, সামরিক এলাকায় ধারাবাহিক বোমাবর্ষণের প্রভাব মানুষের জীবনে পড়ছে। অনেকেই ঘরের ভেতর অবস্থান করছেন। কাছাকাছি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে খাদ্যসংকট নেই। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ জ্বালানি নিয়ে। দূর ও নিকট যাত্রার জন্য জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মানুষকে।

সীমান্ত ও বাণিজ্য সচল রাখার চেষ্টা
তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাত জানিয়েছেন, ইরান তার নিজস্ব নাগরিকদের তুরস্ক হয়ে দেশে ফিরতে অনুমতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনটি সীমান্ত গেট দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত পারাপার ও বাণিজ্য প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিট উচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে।
সংঘাতের বিস্তার ও অনিশ্চয়তা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার পর থেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক আছে বলে দাবি করা হচ্ছে, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
সীমান্তপথে মানুষের এই চলাচল ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি আরও অস্থির হলে পারাপারের সংখ্যা বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















