জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগত অসঙ্গতি ও ঘটনার স্থানের বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করে এই সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ট্রাকচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ওয়াসার পানির লাইনকর্মী জাকির হোসেন এবং জুতা কারখানার শ্রমিক রমজান মিয়া জীবন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না পড়ায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে আদালত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে এবং পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।

মামলায় ঘটনার স্থান নিয়ে বিভ্রান্তি
তদন্তে উঠে এসেছে, নিহতদের পরিবার যে স্থানের কথা উল্লেখ করে মামলা করেছেন, অন্যদিকে আরও তিনজন ভিন্ন ব্যক্তি একই ঘটনায় আলাদা মামলা করে ভিন্ন থানা এলাকার কথা উল্লেখ করেছেন। এতে মূল ঘটনার স্থান ও প্রেক্ষাপট নিয়ে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই তথ্যগত ত্রুটির কারণেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ টেকসই হয়নি।
জাহাঙ্গীর হত্যা মামলা
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে মারা যান ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর। পরিবারের পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মামলা করা হলেও অন্য একটি মামলায় ঘটনার স্থান ভাটারা থানা এলাকা উল্লেখ করা হয়। তদন্তে বলা হয়েছে, প্রকৃত ঘটনা উল্লাপাড়ায় সংঘটিত হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন হওয়ায় পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এ মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
জাকির হত্যা মামলা
২০২৪ সালের ২১ জুলাই ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন ২৪ বছর বয়সী জাকির হোসেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এক মামলায় ঘটনার স্থান ভাটারা উল্লেখ থাকলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগে কদমতলী এলাকার কথা বলা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রকৃত ঘটনাস্থল কদমতলী। প্রমাণের অভাব ও স্থানগত অসঙ্গতির কারণে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৬৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

জীবন হত্যা মামলা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিলে গুলিবিদ্ধ হন রমজান মিয়া জীবন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি মারা যান। তদন্তে বলা হয়েছে, অভিযোগে বর্ণিত তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থল ও প্রমাণের মিল পাওয়া যায়নি। এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি মেলেনি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাঠের কণ্ঠস্বর
জাহাঙ্গীর মামলার বাদী দাবি করেছেন, মামলা করতে গিয়ে তিনি নানা চাপের মুখে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অর্থ লেনদেন ও প্রভাব খাটিয়ে সত্য আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্যগত ত্রুটি ও প্রমাণের ঘাটতির কারণেই অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















