নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হার এড়িয়েছে কানাডা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সাইল লারিনের গুরুত্বপূর্ণ গোলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে স্বাগতিক দল। এই ফলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জনের স্বাদ পেল কানাডা।
টরন্টোর দর্শকভরা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল দারুণ উত্তেজনা। লাল পোশাকে সজ্জিত কানাডিয়ান সমর্থকদের গর্জনে মুখর ছিল পুরো মাঠ। তবে ম্যাচের প্রথম আঘাত হানে বসনিয়া।
প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় বসনিয়া
ম্যাচের ২১তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন জোভো লুকিচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল। এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বসনিয়া।
গোল হজম করার পর আক্রমণের গতি বাড়ায় কানাডা। কিন্তু বারবার সুযোগ তৈরি করেও শেষ মুহূর্তে সাফল্য পাচ্ছিল না তারা। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও গোলের দেখা মেলেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কানাডা। ৫৩তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রিচি লারেয়া। তার শট প্রায় গোললাইন অতিক্রম করতে যাচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে অসাধারণ রক্ষণে বল বিপদমুক্ত করেন বসনিয়ার ডিফেন্ডার সিয়াদ কোলাসিনাচ।
অন্যদিকে বসনিয়াও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। এরমেদিন দেমিরোভিচ একবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে কানাডার গোলরক্ষক ম্যাকসিম ক্রেপো দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
লারিনের আগমনে বদলে যায় ভাগ্য
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সাইল লারিন। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই তিনি ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে দেন। ৭৮তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার ডান পায়ের শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
এই গোল শুধু কানাডাকে সমতায় ফেরায়নি, বরং দেশের ফুটবল ইতিহাসেও বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের মাটিতে এটি ছিল কানাডার প্রথম গোল।

গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ।
বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট কানাডার
১৯৮৬ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি কানাডা। টানা ছয় ম্যাচ হারের পর এবার সপ্তম ম্যাচে এসে প্রথম পয়েন্ট সংগ্রহ করল তারা।
যদিও স্বাগতিকদের লক্ষ্য ছিল জয়, তবু পিছিয়ে থেকেও লড়াই করে সমতায় ফেরা দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, বড় আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রয়েছে কানাডার।
অন্যদিকে বসনিয়াও মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি তারা।
সামনে কঠিন লড়াই
গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে বসনিয়া মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের। অন্যদিকে কানাডা খেলবে কাতারের বিপক্ষে। দুই দলের জন্যই সেই ম্যাচগুলো গ্রুপ থেকে পরের পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















