ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনার পর পাকিস্তানজুড়ে বিস্ফোরিত হয়েছে বিক্ষোভ ও সহিংসতা। একাধিক শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা এবং গিলগিট-বালতিস্তানে সরকারি ভবনে আগুন—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে গভীর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, যা পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলছে।

খামেনির মৃত্যুতে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ
রবিবার খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশজুড়ে সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার খবর মিলেছে। অধিকাংশ বিক্ষোভকারী ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পাকিস্তানে ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া জনগোষ্ঠী বসবাস করে, ফলে ধর্মীয় আবেগও এই আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখে।
করাচিতে কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা
করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ হয়। কাছের একটি পুলিশ পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং আশপাশের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
গিলগিট-বালতিস্তানে কারফিউ
উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক দপ্তর, পুলিশ কার্যালয় ও অন্যান্য সরকারি ভবনে আগুন দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিলগিট ও স্কার্দুতে তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়। রাজধানী ইসলামাবাদেও লাল অঞ্চল অভিমুখে মিছিল ঠেকাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধান বিরোধী দলও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী আখ্যা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে বিভক্তি দেখা গেছে। সরকার বলছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

আফগান সীমান্তে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কা
এই অস্থিরতার মাঝেই আফগান সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সাম্প্রতিক অভিযানে শতাধিক আফগান তালেবান সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে বলে তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। পাকিস্তানে প্রতি লিটার তেলের দাম ১০ রুপি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জ্বালানি ব্যয় বাড়লে চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বাড়বে, রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। ইতিমধ্যে দেশের প্রধান শেয়ার সূচক একদিনে প্রায় দশ শতাংশ পড়ে গিয়ে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















