নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারত ও কানাডা নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল। দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশ ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিসহ একাধিক সমঝোতা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউরেনিয়াম সরবরাহে বড় অগ্রগতি
নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর জানানো হয়, কানাডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ২০২৭ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রায় ১ কোটি কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনে এটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাণিজ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দ্রুত একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। ২০২৪ সালে দুই দেশের পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে পণ্য বাণিজ্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।
টানাপোড়েন পেরিয়ে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
২০২৩ সালে এক শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার হত্যাকাণ্ড ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে নেমে গিয়েছিল। কূটনৈতিক উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে উভয় দেশ একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। তবে গত বছর জি–সেভেন সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে দুই নেতা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর নতুন দূত নিয়োগ এবং ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ তৈরি হয়।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে যে মাত্রায় যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বেড়েছে, তা দুই দশকের তুলনায়ও বেশি। এটি শুধু সম্পর্ক পুনরুদ্ধার নয়, বরং নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অংশীদারিত্বের সম্প্রসারণ।

প্রতিরক্ষা ও ইন্দো–প্রশান্ত সহযোগিতা
দুই দেশ একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করতে সম্মত হয়েছে। ইন্দো–প্রশান্ত অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা, সামরিক পেশাগত বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, সংগঠিত অপরাধ, মাদক ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবায়নযোগ্য শক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সমঝোতা
ইউরেনিয়াম চুক্তির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল এবং উদীয়মান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ উত্তেজনার পর ভারত–কানাডা সম্পর্ক এখন অর্থনীতি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড়াচ্ছে। দুই দেশের নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট—ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব হবে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















