০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
চার মাস পর আবারও অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে সৌদি আরামকো ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ প্রায় ৫০ হাজার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা এসকর্ট কার্যক্রম স্থগিত শি: বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন গুদগুদিতে হাসে মানুষ ও বনমানুষ, মিলল হাসির বিবর্তনের ছন্দময় সূত্র ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড জনজীবন, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা বাগেরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: দুই মাসে হাসপাতালে ২০০-এর বেশি রোগী, রেড জোন ঘোষণা শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাল তুরস্ক, তবু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মার্কিনিরাই ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

মঙ্গলের প্রাণের সন্ধানে চিলির লবণ সমতল, নতুন গবেষণায় বড় ইঙ্গিত

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এবার চোখ রেখেছেন পৃথিবীর এক চরম শুষ্ক প্রান্তরে। চিলির আতাকামা মরুভূমির উচ্চভূমিতে অবস্থিত সালার দে পাজোনালেস নামের এক বিস্তীর্ণ লবণ সমতল এখন হয়ে উঠেছে মঙ্গলের প্রতিরূপ হিসেবে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।

মঙ্গলের মতো পরিবেশ, পৃথিবীর বুকে

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত এই লবণ সমতল পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও হিমশীতল অঞ্চল। এখানে অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। পানি প্রায় নেই বললেই চলে। এই চরম প্রতিকূল পরিবেশই একে মঙ্গলের মতো করে তুলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন পরিবেশে যদি প্রাণ টিকে থাকতে পারে, তবে মঙ্গলেও তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Gypsum (rock) | Ohio Department of Natural Resources

জিপসাম শিলার ভেতরে জীবনের আশ্রয়

গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে জিপসাম নামের একটি খনিজ, যা পৃথিবী ও মঙ্গল—দুই গ্রহেই পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা স্তরবিন্যস্ত শিলা গঠন, যাকে স্ট্রোমাটোলাইট বলা হয়, সেগুলো পরীক্ষা করেন। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অণুজীবের কার্যকলাপের ফলে তৈরি হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিপসাম শিলা জীবনের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। শিলার পৃষ্ঠের মাত্র কয়েক মিলিমিটার নিচেই জীবিত অণুজীবের উপস্থিতি মিলেছে। জিপসাম আংশিক স্বচ্ছ হওয়ায় সূর্যালোক ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, ফলে অণুজীব টিকে থাকার মতো শক্তি পায়। একই সঙ্গে এটি ক্ষতিকর বিকিরণ আটকে দেয় এবং অল্প পরিমাণ আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফলে চরম শুষ্ক পরিবেশেও জীবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রাচীন জীবনের চিহ্নও সংরক্ষিত

Gypsum | Earth Sciences Museum | University of Waterloo

শুধু জীবিত অণুজীবই নয়, শিলার আরও গভীরে পাওয়া গেছে প্রাচীন জীবনের জীবাশ্ম ও রাসায়নিক চিহ্ন। গবেষকদের মতে, অণুজীব মারা যাওয়ার পর জিপসাম তাদের অবশিষ্টাংশকে সিল করে সংরক্ষণ করেছে। অর্থাৎ, এই খনিজ শুধু জীবনকে রক্ষা করে না, তার ইতিহাসও ধরে রাখে।

মঙ্গলের অনুসন্ধানে নতুন দিশা

বিজ্ঞানীরা জানেন, মঙ্গল গ্রহে বিশাল পরিমাণ জিপসাম সঞ্চিত আছে। ভবিষ্যতে কক্ষপথে থাকা যন্ত্র বা উপগ্রহ এসব এলাকায় আরও গভীর অনুসন্ধান চালাতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে চরম মরুভূমিতে যদি জিপসাম অণুজীবকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পারে, তবে মঙ্গলের জিপসামেও হয়তো লুকিয়ে আছে প্রাচীন জীবনের গোপন তথ্য।

এই গবেষণা তাই শুধু আতাকামা মরুভূমির সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানের পথে এক বড় অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার মাস পর আবারও অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে সৌদি আরামকো

মঙ্গলের প্রাণের সন্ধানে চিলির লবণ সমতল, নতুন গবেষণায় বড় ইঙ্গিত

০৩:১৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এবার চোখ রেখেছেন পৃথিবীর এক চরম শুষ্ক প্রান্তরে। চিলির আতাকামা মরুভূমির উচ্চভূমিতে অবস্থিত সালার দে পাজোনালেস নামের এক বিস্তীর্ণ লবণ সমতল এখন হয়ে উঠেছে মঙ্গলের প্রতিরূপ হিসেবে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।

মঙ্গলের মতো পরিবেশ, পৃথিবীর বুকে

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত এই লবণ সমতল পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও হিমশীতল অঞ্চল। এখানে অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। পানি প্রায় নেই বললেই চলে। এই চরম প্রতিকূল পরিবেশই একে মঙ্গলের মতো করে তুলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন পরিবেশে যদি প্রাণ টিকে থাকতে পারে, তবে মঙ্গলেও তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Gypsum (rock) | Ohio Department of Natural Resources

জিপসাম শিলার ভেতরে জীবনের আশ্রয়

গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে জিপসাম নামের একটি খনিজ, যা পৃথিবী ও মঙ্গল—দুই গ্রহেই পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা স্তরবিন্যস্ত শিলা গঠন, যাকে স্ট্রোমাটোলাইট বলা হয়, সেগুলো পরীক্ষা করেন। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অণুজীবের কার্যকলাপের ফলে তৈরি হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিপসাম শিলা জীবনের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। শিলার পৃষ্ঠের মাত্র কয়েক মিলিমিটার নিচেই জীবিত অণুজীবের উপস্থিতি মিলেছে। জিপসাম আংশিক স্বচ্ছ হওয়ায় সূর্যালোক ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, ফলে অণুজীব টিকে থাকার মতো শক্তি পায়। একই সঙ্গে এটি ক্ষতিকর বিকিরণ আটকে দেয় এবং অল্প পরিমাণ আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফলে চরম শুষ্ক পরিবেশেও জীবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রাচীন জীবনের চিহ্নও সংরক্ষিত

Gypsum | Earth Sciences Museum | University of Waterloo

শুধু জীবিত অণুজীবই নয়, শিলার আরও গভীরে পাওয়া গেছে প্রাচীন জীবনের জীবাশ্ম ও রাসায়নিক চিহ্ন। গবেষকদের মতে, অণুজীব মারা যাওয়ার পর জিপসাম তাদের অবশিষ্টাংশকে সিল করে সংরক্ষণ করেছে। অর্থাৎ, এই খনিজ শুধু জীবনকে রক্ষা করে না, তার ইতিহাসও ধরে রাখে।

মঙ্গলের অনুসন্ধানে নতুন দিশা

বিজ্ঞানীরা জানেন, মঙ্গল গ্রহে বিশাল পরিমাণ জিপসাম সঞ্চিত আছে। ভবিষ্যতে কক্ষপথে থাকা যন্ত্র বা উপগ্রহ এসব এলাকায় আরও গভীর অনুসন্ধান চালাতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে চরম মরুভূমিতে যদি জিপসাম অণুজীবকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পারে, তবে মঙ্গলের জিপসামেও হয়তো লুকিয়ে আছে প্রাচীন জীবনের গোপন তথ্য।

এই গবেষণা তাই শুধু আতাকামা মরুভূমির সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানের পথে এক বড় অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।