০৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত ইরানের বোমা হামলার শঙ্কা, সব দেশের অর্থনীতিতে ধাক্কা স্মার্টফোনের দামে আগুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে স্মৃতি চিপ সংকট, বাজারে নেমেছে ‘সুনামি’ ৯৫ বছরে বিদায় রবার্ট ডুভাল: হলিউডের শক্তিশালী উপস্থিতির শেষ অধ্যায় ট্রাম্পের ইরান জুয়া: সর্বশেষ হামলায় উপসাগরে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খোলার ঝুঁকি পাকিস্তান–আফগানিস্তান ‘খোলা যুদ্ধ’: সীমান্তে গোলাবর্ষণ, আকাশপথে হামলা, বাড়ছে রক্তক্ষয় ভাষাই কি নতুন অস্ত্র? ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় সামরিক ভাষা প্রশিক্ষণে বড় পরিবর্তনের আহ্বান এলিয়েন জীবনের খবর এলে বিশ্ব কীভাবে নেবে, উত্তেজনা না আতঙ্ক রাশিয়ার তীব্র নিন্দা: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা ‘উসকানিহীন আগ্রাসন’, কূটনীতিতে ফেরার আহ্বান পা গরম রাখলে ঘুম আসে তাড়াতাড়ি? বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যায় মিলল সহজ সমাধান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল-গ্যাস ও বাণিজ্য হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ, ওয়াশিংটনের ওপর আস্থায় বড় ধাক্কা

মঙ্গলের প্রাণের সন্ধানে চিলির লবণ সমতল, নতুন গবেষণায় বড় ইঙ্গিত

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এবার চোখ রেখেছেন পৃথিবীর এক চরম শুষ্ক প্রান্তরে। চিলির আতাকামা মরুভূমির উচ্চভূমিতে অবস্থিত সালার দে পাজোনালেস নামের এক বিস্তীর্ণ লবণ সমতল এখন হয়ে উঠেছে মঙ্গলের প্রতিরূপ হিসেবে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।

মঙ্গলের মতো পরিবেশ, পৃথিবীর বুকে

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত এই লবণ সমতল পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও হিমশীতল অঞ্চল। এখানে অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। পানি প্রায় নেই বললেই চলে। এই চরম প্রতিকূল পরিবেশই একে মঙ্গলের মতো করে তুলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন পরিবেশে যদি প্রাণ টিকে থাকতে পারে, তবে মঙ্গলেও তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Gypsum (rock) | Ohio Department of Natural Resources

জিপসাম শিলার ভেতরে জীবনের আশ্রয়

গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে জিপসাম নামের একটি খনিজ, যা পৃথিবী ও মঙ্গল—দুই গ্রহেই পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা স্তরবিন্যস্ত শিলা গঠন, যাকে স্ট্রোমাটোলাইট বলা হয়, সেগুলো পরীক্ষা করেন। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অণুজীবের কার্যকলাপের ফলে তৈরি হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিপসাম শিলা জীবনের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। শিলার পৃষ্ঠের মাত্র কয়েক মিলিমিটার নিচেই জীবিত অণুজীবের উপস্থিতি মিলেছে। জিপসাম আংশিক স্বচ্ছ হওয়ায় সূর্যালোক ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, ফলে অণুজীব টিকে থাকার মতো শক্তি পায়। একই সঙ্গে এটি ক্ষতিকর বিকিরণ আটকে দেয় এবং অল্প পরিমাণ আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফলে চরম শুষ্ক পরিবেশেও জীবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রাচীন জীবনের চিহ্নও সংরক্ষিত

Gypsum | Earth Sciences Museum | University of Waterloo

শুধু জীবিত অণুজীবই নয়, শিলার আরও গভীরে পাওয়া গেছে প্রাচীন জীবনের জীবাশ্ম ও রাসায়নিক চিহ্ন। গবেষকদের মতে, অণুজীব মারা যাওয়ার পর জিপসাম তাদের অবশিষ্টাংশকে সিল করে সংরক্ষণ করেছে। অর্থাৎ, এই খনিজ শুধু জীবনকে রক্ষা করে না, তার ইতিহাসও ধরে রাখে।

মঙ্গলের অনুসন্ধানে নতুন দিশা

বিজ্ঞানীরা জানেন, মঙ্গল গ্রহে বিশাল পরিমাণ জিপসাম সঞ্চিত আছে। ভবিষ্যতে কক্ষপথে থাকা যন্ত্র বা উপগ্রহ এসব এলাকায় আরও গভীর অনুসন্ধান চালাতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে চরম মরুভূমিতে যদি জিপসাম অণুজীবকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পারে, তবে মঙ্গলের জিপসামেও হয়তো লুকিয়ে আছে প্রাচীন জীবনের গোপন তথ্য।

এই গবেষণা তাই শুধু আতাকামা মরুভূমির সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানের পথে এক বড় অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত ইরানের বোমা হামলার শঙ্কা, সব দেশের অর্থনীতিতে ধাক্কা

মঙ্গলের প্রাণের সন্ধানে চিলির লবণ সমতল, নতুন গবেষণায় বড় ইঙ্গিত

০৩:১৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এবার চোখ রেখেছেন পৃথিবীর এক চরম শুষ্ক প্রান্তরে। চিলির আতাকামা মরুভূমির উচ্চভূমিতে অবস্থিত সালার দে পাজোনালেস নামের এক বিস্তীর্ণ লবণ সমতল এখন হয়ে উঠেছে মঙ্গলের প্রতিরূপ হিসেবে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।

মঙ্গলের মতো পরিবেশ, পৃথিবীর বুকে

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত এই লবণ সমতল পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও হিমশীতল অঞ্চল। এখানে অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। পানি প্রায় নেই বললেই চলে। এই চরম প্রতিকূল পরিবেশই একে মঙ্গলের মতো করে তুলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন পরিবেশে যদি প্রাণ টিকে থাকতে পারে, তবে মঙ্গলেও তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Gypsum (rock) | Ohio Department of Natural Resources

জিপসাম শিলার ভেতরে জীবনের আশ্রয়

গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে জিপসাম নামের একটি খনিজ, যা পৃথিবী ও মঙ্গল—দুই গ্রহেই পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা স্তরবিন্যস্ত শিলা গঠন, যাকে স্ট্রোমাটোলাইট বলা হয়, সেগুলো পরীক্ষা করেন। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অণুজীবের কার্যকলাপের ফলে তৈরি হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিপসাম শিলা জীবনের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। শিলার পৃষ্ঠের মাত্র কয়েক মিলিমিটার নিচেই জীবিত অণুজীবের উপস্থিতি মিলেছে। জিপসাম আংশিক স্বচ্ছ হওয়ায় সূর্যালোক ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, ফলে অণুজীব টিকে থাকার মতো শক্তি পায়। একই সঙ্গে এটি ক্ষতিকর বিকিরণ আটকে দেয় এবং অল্প পরিমাণ আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফলে চরম শুষ্ক পরিবেশেও জীবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রাচীন জীবনের চিহ্নও সংরক্ষিত

Gypsum | Earth Sciences Museum | University of Waterloo

শুধু জীবিত অণুজীবই নয়, শিলার আরও গভীরে পাওয়া গেছে প্রাচীন জীবনের জীবাশ্ম ও রাসায়নিক চিহ্ন। গবেষকদের মতে, অণুজীব মারা যাওয়ার পর জিপসাম তাদের অবশিষ্টাংশকে সিল করে সংরক্ষণ করেছে। অর্থাৎ, এই খনিজ শুধু জীবনকে রক্ষা করে না, তার ইতিহাসও ধরে রাখে।

মঙ্গলের অনুসন্ধানে নতুন দিশা

বিজ্ঞানীরা জানেন, মঙ্গল গ্রহে বিশাল পরিমাণ জিপসাম সঞ্চিত আছে। ভবিষ্যতে কক্ষপথে থাকা যন্ত্র বা উপগ্রহ এসব এলাকায় আরও গভীর অনুসন্ধান চালাতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে চরম মরুভূমিতে যদি জিপসাম অণুজীবকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পারে, তবে মঙ্গলের জিপসামেও হয়তো লুকিয়ে আছে প্রাচীন জীবনের গোপন তথ্য।

এই গবেষণা তাই শুধু আতাকামা মরুভূমির সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানের পথে এক বড় অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।