হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা রবার্ট ডুভাল আর নেই। ১৫ ফেব্রুয়ারি ৯৫ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণে বিশ্ব সিনেমা হারাল এক অনন্য ব্যক্তিত্বকে। পর্দায় তিনি কখনও চরিত্রের ভেতর গলে যাননি পুরোপুরি, বরং নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি দিয়ে চরিত্রকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এটাই ছিল তাঁর অভিনয়ের আসল শক্তি।
চরিত্রের ভেতর থেকেও আলাদা এক সত্তা
অনেক অভিনেতা চরিত্রে মিশে যান, কিন্তু রবার্ট ডুভাল ছিলেন অন্যরকম। তাঁর অভিনয়ে ছিল এক অদ্ভুত জীবন্ত ঝলক। ‘দ্য গডফাদার’–এর প্রথম দুটি ছবিতে টম হেগেন চরিত্রে তাঁর মসৃণ অথচ দৃঢ় উপস্থিতি দর্শকদের মনে গেঁথে আছে আজও। আবার ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ ছবিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিলগোর চরিত্রে তিনি ছিলেন একই সঙ্গে অদ্ভুত, উগ্র এবং স্মরণীয়।
১৯৯৭ সালে ‘দ্য অ্যাপোস্টল’ ছবিতে সনি চরিত্রে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, চিত্রনাট্য লিখে ও পরিচালনা করে দেখিয়েছেন নিজের সৃজনশীলতার আরেক দিক। সেই চরিত্রে ছিল বিশ্বাস, অনুতাপ এবং মুক্তির গভীর অনুসন্ধান।

কঠিন চরিত্রেও বিশ্বাসযোগ্যতার ছাপ
রবার্ট ডুভাল প্রায়ই এমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাদের সহজে পছন্দ করা যায় না। ‘ম্যাশ’ ছবিতে আত্মগর্বী সার্জন ফ্র্যাঙ্ক বার্নস কিংবা ‘নেটওয়ার্ক’ ছবিতে নির্মম টেলিভিশন নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক হ্যাকেট—এই সব চরিত্রে ছিল কঠোরতা, ঔদ্ধত্য, কখনও নির্মমতা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তিনি এমনভাবে অভিনয় করতেন যে দর্শক সেই চরিত্রগুলোকেও বিশ্বাস করতে বাধ্য হতো।
তাঁর চোখ কখনও কঠিন ইস্পাতের মতো ঠান্ডা, আবার কখনও আনন্দে ঝলমল করত। এই বৈপরীত্যই তাঁকে আলাদা করেছে সমসাময়িকদের থেকে।
মানুষের জটিলতাকে বড় করে দেখানোর ক্ষমতা
রবার্ট ডুভালের বড় উপহার ছিল মানুষের জটিলতা ও দ্বন্দ্বকে সামনে আনা। তিনি চরিত্রের রূপ বদলাতেন না, বরং দর্শকের ভেতরে কিছু বদলে দিতেন। তাঁর অভিনয় আমাদের এমন মানবিক স্তরে নিয়ে যেত, যেখানে ভালো-মন্দের সীমানা সহজ নয়। ফলে পৃথিবীকে আরও বড়, আরও গভীর বলে মনে হতো।
হলিউডে তাঁর দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে, শক্তিশালী উপস্থিতি আর গভীর অভিনয় মিললে সময়ও তাকে মুছে দিতে পারে না। রবার্ট ডুভালের প্রয়াণে এক যুগের অবসান হলেও তাঁর চরিত্রগুলো বেঁচে থাকবে সিনেমার ইতিহাসে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















