১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই

চীনের মহাকাশভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প: টাইফুন নিয়ন্ত্রণে নতুন ভাবনা

চীন মহাকাশভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গতি আনার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির এক শীর্ষ প্রকৌশলী। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে শুধু পৃথিবীতে পরিষ্কার জ্বালানি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং টাইফুনের মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও গতিপথ পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মহাকাশ থেকে শক্তির রশ্মি দিয়ে ঝড় নিয়ন্ত্রণের ধারণা

চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘ঝুরি’ প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী দুয়ান বাওইয়ান জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত মাইক্রোওয়েভ রশ্মি সাধারণত পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠাতে ব্যবহার করা হবে। তবে পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন সম্ভব হলে এই রশ্মি ঝড়ের ভেতরের আর্দ্রতাকে উত্তপ্ত করতে নির্দেশিত করা যেতে পারে।

তাঁর ব্যাখ্যায়, শক্তির মাত্রা যথেষ্ট বেশি হলে তা আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে। এর ফলে টাইফুনের তীব্রতা কমানো বা এর গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

মহাকাশ অভিযানে নতুন সম্ভাবনা

দুয়ান আরও জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কেবল পৃথিবীতেই শক্তি সরবরাহ করবে না, বরং উপগ্রহ, মহাকাশ স্টেশন এবং গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানযানেও শক্তি জোগাতে পারবে। এতে এসব যানের কার্যক্ষমতা ও কার্যকাল বৃদ্ধি পাবে।

ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কিংবা চাঁদে সম্ভাব্য ঘাঁটিও এই ‘মহাকাশ বিদ্যুৎ ভাণ্ডার’ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘ঝুরি’ প্রকল্পের লক্ষ্য ও অগ্রগতি

২০১৩ সালে দুয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা প্রথম এই প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। ‘ঝুরি’ শব্দের অর্থ ‘সূর্যকে অনুসরণ করা’। দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপরে ভূস্থির কক্ষপথে এক কিলোমিটার ব্যাসের বৃত্তাকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা, যা গিগাওয়াট মাত্রার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

২০২২ সালে গবেষণা দলটি শিয়ানের শিদিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৭৫ মিটার উঁচু একটি পরীক্ষামূলক টাওয়ার নির্মাণ করে। সেখানে পৃথিবীতেই পুরো প্রক্রিয়ার অনুকরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল সূর্যকে অনুসরণ করা, আলোকে কেন্দ্রীভূত করা, সেটিকে বিদ্যুতে রূপান্তর, বিদ্যুৎকে মাইক্রোওয়েভে রূপান্তর, দূরত্ব অতিক্রম করে সেই রশ্মি প্রেরণ এবং গ্রহণকারী অ্যান্টেনায় পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর।

নতুন প্রযুক্তিগত সাফল্য

গবেষণা দলটি সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করেছে। দুয়ানের ভাষায়, তারা ‘এক থেকে একাধিক’ বিদ্যুৎ প্রেরণ ব্যবস্থা সফলভাবে প্রদর্শন করেছে। এর মাধ্যমে একটি মাইক্রোওয়েভ প্রেরক একই সময়ে একাধিক চলমান গ্রাহক যন্ত্রে শক্তি পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, যা আগে কেবল একটি স্থির লক্ষ্যবস্তুর ক্ষেত্রে সম্ভব ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা জ্বালানি প্রযুক্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মহাকাশ অনুসন্ধান—তিন ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ

চীনের মহাকাশভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প: টাইফুন নিয়ন্ত্রণে নতুন ভাবনা

০৪:১৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

চীন মহাকাশভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গতি আনার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির এক শীর্ষ প্রকৌশলী। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে শুধু পৃথিবীতে পরিষ্কার জ্বালানি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং টাইফুনের মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও গতিপথ পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মহাকাশ থেকে শক্তির রশ্মি দিয়ে ঝড় নিয়ন্ত্রণের ধারণা

চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘ঝুরি’ প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী দুয়ান বাওইয়ান জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত মাইক্রোওয়েভ রশ্মি সাধারণত পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠাতে ব্যবহার করা হবে। তবে পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন সম্ভব হলে এই রশ্মি ঝড়ের ভেতরের আর্দ্রতাকে উত্তপ্ত করতে নির্দেশিত করা যেতে পারে।

তাঁর ব্যাখ্যায়, শক্তির মাত্রা যথেষ্ট বেশি হলে তা আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে। এর ফলে টাইফুনের তীব্রতা কমানো বা এর গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

মহাকাশ অভিযানে নতুন সম্ভাবনা

দুয়ান আরও জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কেবল পৃথিবীতেই শক্তি সরবরাহ করবে না, বরং উপগ্রহ, মহাকাশ স্টেশন এবং গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানযানেও শক্তি জোগাতে পারবে। এতে এসব যানের কার্যক্ষমতা ও কার্যকাল বৃদ্ধি পাবে।

ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কিংবা চাঁদে সম্ভাব্য ঘাঁটিও এই ‘মহাকাশ বিদ্যুৎ ভাণ্ডার’ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘ঝুরি’ প্রকল্পের লক্ষ্য ও অগ্রগতি

২০১৩ সালে দুয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা প্রথম এই প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। ‘ঝুরি’ শব্দের অর্থ ‘সূর্যকে অনুসরণ করা’। দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপরে ভূস্থির কক্ষপথে এক কিলোমিটার ব্যাসের বৃত্তাকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা, যা গিগাওয়াট মাত্রার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

২০২২ সালে গবেষণা দলটি শিয়ানের শিদিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৭৫ মিটার উঁচু একটি পরীক্ষামূলক টাওয়ার নির্মাণ করে। সেখানে পৃথিবীতেই পুরো প্রক্রিয়ার অনুকরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল সূর্যকে অনুসরণ করা, আলোকে কেন্দ্রীভূত করা, সেটিকে বিদ্যুতে রূপান্তর, বিদ্যুৎকে মাইক্রোওয়েভে রূপান্তর, দূরত্ব অতিক্রম করে সেই রশ্মি প্রেরণ এবং গ্রহণকারী অ্যান্টেনায় পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর।

নতুন প্রযুক্তিগত সাফল্য

গবেষণা দলটি সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করেছে। দুয়ানের ভাষায়, তারা ‘এক থেকে একাধিক’ বিদ্যুৎ প্রেরণ ব্যবস্থা সফলভাবে প্রদর্শন করেছে। এর মাধ্যমে একটি মাইক্রোওয়েভ প্রেরক একই সময়ে একাধিক চলমান গ্রাহক যন্ত্রে শক্তি পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, যা আগে কেবল একটি স্থির লক্ষ্যবস্তুর ক্ষেত্রে সম্ভব ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা জ্বালানি প্রযুক্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মহাকাশ অনুসন্ধান—তিন ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।