চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক বাণিজ্যে মন্দাভাবের প্রভাব থাকলেও সামগ্রিকভাবে খাতটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানিতে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে বড় পতন
সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ কম। এর আগে জানুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছিল ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আগের বছরের ৩২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য কম আয় এসেছে।

কেন কমল রপ্তানি
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাময়িক কয়েকটি কারণে এই সংকোচন দেখা দিয়েছে। দেশের বন্দর কার্যক্রমে বিঘ্ন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং প্রধান ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়া এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে তারা এটিকে স্থায়ী ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না।
পোশাক খাতের চিত্র
দেশের রপ্তানির মূল ভরকেন্দ্র তৈরি পোশাক খাত জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আয় করেছে ২৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পোশাকের ভেতরে নিট পোশাক এখনও আয়ের শীর্ষে, যা ওভেন পোশাকের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

বিকল্প খাতে ইতিবাচক ধারা
সামগ্রিক চিত্রে সামান্য পতন থাকলেও অপ্রচলিত কয়েকটি খাতে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহবস্ত্র, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং হিমায়িত মাছ খাতে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি রপ্তানি বহুমুখীকরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বড় বাজার ও নতুন সম্ভাবনা
রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই রয়েছে শীর্ষে। এই বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে সামান্য ০ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে চীনে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে আশাবাদ
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, সামান্য পতন সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিবেশ এখনও স্থিতিশীল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা জটিলতা মোকাবিলা করেও রপ্তানি খাত টিকে আছে। অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলেও তারা আশা করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















