যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা শুরু হওয়ার সেই টানটান মুহূর্তে হোয়াইট হাউসে নয়, ফ্লোরিডার নিজস্ব প্রাসাদ মার-আ-লাগোতেই অবস্থান করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকেই তিনি ইরানে চালানো সামরিক অভিযানের তদারকি করেন। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে ধরা পড়ে সেই ‘যুদ্ধকক্ষ’-এর ভেতরের দৃশ্য, যা থেকে স্পষ্ট হয় সিদ্ধান্তের মুহূর্তগুলো কতটা সংবেদনশীল ছিল।
মার-আ-লাগোর সুরক্ষিত কক্ষ থেকে নজরদারি
সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের বিশেষ সুরক্ষিত ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে। কিন্তু এবার অভিযান শুরুর সময় ট্রাম্প ছিলেন ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে। সেখানকার একটি বিশেষ সুরক্ষিত তথ্যকক্ষ থেকে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই কক্ষটি এমনভাবে তৈরি, যেখানে গোপন ও শ্রেণিবদ্ধ তথ্য নিরাপদে আদান-প্রদান করা যায়। ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে থাকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, সাদা রঙের ‘ইউএসএ’ লেখা টুপি পরে ট্রাম্প বড় পর্দায় ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ঘরের পরিবেশে ছিল চাপা উত্তেজনা, মনোযোগ আর দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি।
ঘরের ভেতরের মানুষজন ও বার্তা
আরেকটি ছবিতে দেখা যায় মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন একটি বড় পর্দায় আরব সাগরের একটি সামরিক সম্পদের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যা ইরানের দক্ষিণে অবস্থান করছিল। সাধারণত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে জেনারেলদের সামরিক পোশাকে দেখা গেলেও এখানে তাকে অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক পোশাকে দেখা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি উঠেছিল, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে জেনারেল সতর্ক করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন এবং বলেন, সম্ভাব্য সংঘাত সহজেই জয় করা সম্ভব।
আরেক ছবিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কক্ষের একপাশে দেখা যায়। খুব শিগগিরই তিনি কংগ্রেসে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দেওয়ার কথা রয়েছে। একই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের আরও শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ওয়াশিংটনের সিচুয়েশন রুমে ভাইস প্রেসিডেন্ট
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত শেষ ছবিতে দেখা যায় ওয়াশিংটনের মূল সিচুয়েশন রুম, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্মেলন কলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত থেকে পুরো অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন। দেয়ালে স্পষ্ট ছিল ভাইস প্রেসিডেন্টের সিলমোহর।
প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই কক্ষে রয়েছে একাধিক সুরক্ষিত সম্মেলনকক্ষ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং শতাধিক কর্মী। সর্বশেষ সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এটিকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করা হয়েছে।
হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা
রবিবার শেষ হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাহিনী ইরানজুড়ে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হামলার লক্ষ্য ছিল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের যৌথ সদর দপ্তর।
এই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানের শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের বড় অংশও প্রাণ হারান। তবে পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি তেহরান। ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরজুড়ে বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
অন্তহীন যুদ্ধ নয়, আশ্বাস পেন্টাগনের
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এই অভিযানকে দীর্ঘমেয়াদি অন্তহীন যুদ্ধে রূপ দিতে চায় না তারা। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত, আর সংঘর্ষের ধারা এখনও থামেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















