০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ৪ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রামে ১৮২ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রী ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প ১৬ মাসের সর্বোচ্চে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি, ফেব্রুয়ারিতে ৭% স্পর্শ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইউএস মেরিনস: কর্মকর্তা তোশাখানা ‘ভুয়া রসিদ’ মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির জামিন, আরও ৫ মামলাতেও স্বস্তি ইরান ছাড়তে সীমান্তে হুড়োহুড়ি, তাফতান দিয়ে ফিরছেন পাকিস্তানিরা  ইরান পারমাণবিক অস্ত্র নেবে না’, সিনেটে দাবি পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের রুশ তেল আমদানি ২০% এর নিচে, পশ্চিম এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে ভারত ভরিতে আবারও ৩,৩২৪ টাকা বেড়েছে সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়াল

খামেনির পরও ইরান ভাঙবে না সহজে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কাঠামো তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে— এমনটি মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। সামরিক কমান্ডারদের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব আসবে, ৪৭ বছরে গড়ে ওঠা শাসনব্যবস্থা কেবল আকাশ হামলায় ভেঙে যাবে না। তবু যুদ্ধের এই ধাক্কায় ইরান অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে।

দুর্বল কিন্তু অটুট রাষ্ট্রযন্ত্র

খামেনির নেতৃত্বে ইরান দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ধরে রেখেছিল। লেবাননে হিজবুল্লাহ, গাজায় হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, ইয়েমেনে হুতি— এ ধরনের মিত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে তেহরান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করে। একইসঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ ছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়েছে, আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানও নড়বড়ে হয়েছে। খামেনির মৃত্যু ও ব্যাপক বিমান হামলার পর ইরানের প্রভাব আরও কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের পরিণতি কত দূর?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের কৌশলগত প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মতো বড় পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন, তবু ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে— এমন নিশ্চয়তা নেই।

স্বল্পমেয়াদে ইরান আরও পাল্টা হামলা চালিয়ে যুদ্ধের খরচ বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, পাল্টা হিসেবে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় তিন সেনা নিহত হওয়ার খবরও এসেছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি

ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা সক্রিয় হলে সংঘাত দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি এবং লোহিত সাগরে হুতিদের সক্রিয়তা যুদ্ধকে বিস্তৃত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে।

ভেতরের পরিবর্তন না কঠোর শাসন?

দীর্ঘমেয়াদে ইরান যদি অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তবে আঞ্চলিক হস্তক্ষেপ কমতে পারে। এতে লেবানন, ফিলিস্তিন এমনকি সিরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নেতৃত্ব যদি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের মতো কঠোর গোষ্ঠীর হাতে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নতুন সরকার ছাড় দেবে কি না, তা অনিশ্চিত।

বিপ্লবের আহ্বান কতটা বাস্তব?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানালেও ইতিহাস বলছে— এমন আহ্বান সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল আনে না। ১৯৯১ সালে ইরাকে একই ধরনের আহ্বানের পর গণঅভ্যুত্থান দমন হয়েছিল রক্তক্ষয়ীভাবে।

ইরানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল। রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো সংগঠিত, নিরাপত্তা কাঠামো সক্রিয়। ফলে পরিবর্তন এলেও তা হবে ধাপে ধাপে— এবং কোন দিকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন

খামেনির পরও ইরান ভাঙবে না সহজে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

০৬:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কাঠামো তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে— এমনটি মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। সামরিক কমান্ডারদের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব আসবে, ৪৭ বছরে গড়ে ওঠা শাসনব্যবস্থা কেবল আকাশ হামলায় ভেঙে যাবে না। তবু যুদ্ধের এই ধাক্কায় ইরান অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে।

দুর্বল কিন্তু অটুট রাষ্ট্রযন্ত্র

খামেনির নেতৃত্বে ইরান দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ধরে রেখেছিল। লেবাননে হিজবুল্লাহ, গাজায় হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, ইয়েমেনে হুতি— এ ধরনের মিত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে তেহরান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করে। একইসঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ ছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়েছে, আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানও নড়বড়ে হয়েছে। খামেনির মৃত্যু ও ব্যাপক বিমান হামলার পর ইরানের প্রভাব আরও কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের পরিণতি কত দূর?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের কৌশলগত প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মতো বড় পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন, তবু ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে— এমন নিশ্চয়তা নেই।

স্বল্পমেয়াদে ইরান আরও পাল্টা হামলা চালিয়ে যুদ্ধের খরচ বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, পাল্টা হিসেবে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় তিন সেনা নিহত হওয়ার খবরও এসেছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি

ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা সক্রিয় হলে সংঘাত দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি এবং লোহিত সাগরে হুতিদের সক্রিয়তা যুদ্ধকে বিস্তৃত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে।

ভেতরের পরিবর্তন না কঠোর শাসন?

দীর্ঘমেয়াদে ইরান যদি অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তবে আঞ্চলিক হস্তক্ষেপ কমতে পারে। এতে লেবানন, ফিলিস্তিন এমনকি সিরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নেতৃত্ব যদি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের মতো কঠোর গোষ্ঠীর হাতে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নতুন সরকার ছাড় দেবে কি না, তা অনিশ্চিত।

বিপ্লবের আহ্বান কতটা বাস্তব?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানালেও ইতিহাস বলছে— এমন আহ্বান সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল আনে না। ১৯৯১ সালে ইরাকে একই ধরনের আহ্বানের পর গণঅভ্যুত্থান দমন হয়েছিল রক্তক্ষয়ীভাবে।

ইরানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল। রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো সংগঠিত, নিরাপত্তা কাঠামো সক্রিয়। ফলে পরিবর্তন এলেও তা হবে ধাপে ধাপে— এবং কোন দিকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।