আফ্রিকার শীর্ষ ধনী আলিকো ড্যাংগোটে একসময় বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন—রোলস-রয়েস, ফেরারি, বিদেশে একাধিক বাড়ি ও জমকালো পার্টি ছিল তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু দুই দশক আগে তিনি ভিন্ন পথ বেছে নেন। ব্যক্তিগত আড়ম্বরের বদলে শিল্পায়নকে জীবনের লক্ষ্য করেন। তার ভাষায়, “আমাদের কারও না কারও তো দেশকে উদ্ধার করতে হবে।”
বর্তমানে তার সবচেয়ে বড় প্রকল্প নাইজেরিয়ায় নির্মিত বিশাল তেল শোধনাগার, যা এখন পূর্ণমাত্রায় চালু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজেরিয়ায় এই প্রকল্প নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিনি থেকে সিমেন্ট, এখন তেল
৬৮ বছর বয়সী ড্যাংগোটে প্রথমে চিনি শোধনাগার স্থাপন করেন, এরপর লবণ, সিমেন্ট, সার ও পলিউরেথেন কারখানা গড়ে তোলেন। নাইজেরিয়া ছাড়িয়ে সেনেগাল, ইথিওপিয়া ও তানজানিয়াতেও তার সিমেন্ট কারখানা বিস্তৃত হয়েছে।
তার মতে, আফ্রিকার তরুণ জনসংখ্যার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বড় শিল্পায়ন অপরিহার্য। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে কেবল নাইজেরিয়াতেই ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হবে।
দৈনিক ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন
ড্যাংগোটের নতুন শোধনাগার ইতোমধ্যে প্রতিদিন ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। আগামী বছরে উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও তেল খাতের দুর্নীতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশের পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ থেকে তেল আমদানি করতে হয়েছে।
অবকাঠামো গড়তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ
২০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ড্যাংগোটে ৬ কোটি ৫০ লাখ টন বালু দিয়ে জলাভূমি ভরাট করেছেন। ১০ হাজারের বেশি ট্রাক আমদানি করেছেন চীন থেকে। শোধনাগার থেকে বন্দরে সংযোগ দিতে ২৩ মাইল দীর্ঘ ১০ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ করেছেন কর সুবিধা ব্যবহার করে।
বর্তমানে তার শোধনাগারে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ কাজ করছেন, যার ৮০ শতাংশ নাইজেরীয়। সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ হাজারে।
বিতর্ক ও সমালোচনা
ড্যাংগোটের বিরুদ্ধে অনেকেই একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগ তোলেন। নাইজেরিয়ার নির্মাণ সাইটে তার ব্র্যান্ডের সিমেন্ট এবং বাজারে তার চিনি ও ময়দা প্রায় সর্বত্র দেখা যায়। ২০২৩ সালে বৈদেশিক মুদ্রা সুবিধা নিয়ে তদন্ত হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত হননি।
তার দাবি, সরকারি প্রণোদনা কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করেছেন। “কেউ সাহস করেনি, তাই আমরা করেছি,”—বলেন তিনি।
উত্তরাধিকার কী?
ব্যক্তিগত জীবনে তিন মেয়েকেই নির্বাহী পদে দায়িত্ব দিয়েছেন ড্যাংগোটে, যা প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙেছে। তার ফাউন্ডেশন ৪৫ হাজার শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে ১০ হাজার কেবল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য।
ড্যাংগোটের মতে, তার উত্তরাধিকার বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় জিনিস নিজের দেশেই উৎপাদন নিশ্চিত করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















