০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

‘নো রেজিম চেঞ্জ’ থেকে সরকার পতনের ডাক: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নাটকীয় অবস্থান বদল

২০১৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বলেছিলেন, “রেজিম চেঞ্জ হলো প্রমাণিত ও সম্পূর্ণ ব্যর্থতা।” ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি গর্ব করে বলেন, তিনি “কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু করেননি” এবং প্রতিশ্রুতি দেন যুক্তরাষ্ট্রকে আর বিদেশি সংঘাতে জড়াবেন না।

কিন্তু এক দশকের ব্যবধানে সেই অবস্থান আমূল বদলে গেছে। এখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানিদের উদ্দেশে বলেছেন—“তোমাদের সরকার নিজেদের হাতে নাও।”

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সরাসরি বিরোধিতা। তিনি যাকে “পিস প্রেসিডেন্ট” হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, এখন সেই তিনিই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়িয়েছেন।

আইনগত প্রশ্নও উঠেছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া অভিযান চালানো সাংবিধানিক কি না—তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। রিপাবলিকান শিবিরের একাংশও অভিযোগ করছে, ট্রাম্প তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

কেন এখন?

ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন—১৯৭৯ সালের মার্কিন দূতাবাস দখল, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক দমন-পীড়ন। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই পদক্ষেপ এখন কেন, আগে নয় কেন?

গত বছর তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করা হয়েছে। তাহলে পুনরায় হামলার প্রয়োজনীয়তা কী—এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

লক্ষ্য কি সরকার পতন?

এবারের হামলায় ট্রাম্প আগের চেয়ে স্পষ্টভাবে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের সঙ্গে এক হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান—যা অনেকের কাছে অবাস্তব বলে মনে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলা ব্যবহার করতেন নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে। কিন্তু এবার সরাসরি সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষণা সংঘাতকে অনিশ্চিত পথে ঠেলে দিয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে বদলে যাওয়া প্রেসিডেন্ট

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের প্রশাসনে অভিজ্ঞ সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তার কিছু সিদ্ধান্তে সংযমের পরামর্শ দিতেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তার চারপাশে রয়েছেন আরও আক্রমণাত্মক ও অনুগত উপদেষ্টারা—যারা তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশি সক্রিয়।

ফলে দেশ-বিদেশে সামরিক শক্তি প্রয়োগে তিনি এখন বেশি স্বচ্ছন্দ বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

ঝুঁকি ও উত্তরাধিকার

ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বড় কোনো ঘোষণা না এলেও, ট্রাম্প নিজেই সম্ভাব্য মার্কিন হতাহতের সতর্কতা দিয়েছেন। ইরানের সরকার পতন ঘটলেও তার জায়গায় আরও বৈরী শক্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে—লিবিয়ার অভিজ্ঞতার মতো।

অভিযানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। সফল হলে সমর্থকেরা একে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলবেন। ব্যর্থ হলে এটি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীত এক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

‘নো রেজিম চেঞ্জ’ থেকে সরকার পতনের ডাক: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নাটকীয় অবস্থান বদল

০৯:০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

২০১৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বলেছিলেন, “রেজিম চেঞ্জ হলো প্রমাণিত ও সম্পূর্ণ ব্যর্থতা।” ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি গর্ব করে বলেন, তিনি “কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু করেননি” এবং প্রতিশ্রুতি দেন যুক্তরাষ্ট্রকে আর বিদেশি সংঘাতে জড়াবেন না।

কিন্তু এক দশকের ব্যবধানে সেই অবস্থান আমূল বদলে গেছে। এখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানিদের উদ্দেশে বলেছেন—“তোমাদের সরকার নিজেদের হাতে নাও।”

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সরাসরি বিরোধিতা। তিনি যাকে “পিস প্রেসিডেন্ট” হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, এখন সেই তিনিই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়িয়েছেন।

আইনগত প্রশ্নও উঠেছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া অভিযান চালানো সাংবিধানিক কি না—তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। রিপাবলিকান শিবিরের একাংশও অভিযোগ করছে, ট্রাম্প তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

কেন এখন?

ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন—১৯৭৯ সালের মার্কিন দূতাবাস দখল, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক দমন-পীড়ন। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই পদক্ষেপ এখন কেন, আগে নয় কেন?

গত বছর তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করা হয়েছে। তাহলে পুনরায় হামলার প্রয়োজনীয়তা কী—এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

লক্ষ্য কি সরকার পতন?

এবারের হামলায় ট্রাম্প আগের চেয়ে স্পষ্টভাবে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের সঙ্গে এক হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান—যা অনেকের কাছে অবাস্তব বলে মনে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলা ব্যবহার করতেন নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে। কিন্তু এবার সরাসরি সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষণা সংঘাতকে অনিশ্চিত পথে ঠেলে দিয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে বদলে যাওয়া প্রেসিডেন্ট

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের প্রশাসনে অভিজ্ঞ সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তার কিছু সিদ্ধান্তে সংযমের পরামর্শ দিতেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তার চারপাশে রয়েছেন আরও আক্রমণাত্মক ও অনুগত উপদেষ্টারা—যারা তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশি সক্রিয়।

ফলে দেশ-বিদেশে সামরিক শক্তি প্রয়োগে তিনি এখন বেশি স্বচ্ছন্দ বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

ঝুঁকি ও উত্তরাধিকার

ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বড় কোনো ঘোষণা না এলেও, ট্রাম্প নিজেই সম্ভাব্য মার্কিন হতাহতের সতর্কতা দিয়েছেন। ইরানের সরকার পতন ঘটলেও তার জায়গায় আরও বৈরী শক্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে—লিবিয়ার অভিজ্ঞতার মতো।

অভিযানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। সফল হলে সমর্থকেরা একে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলবেন। ব্যর্থ হলে এটি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীত এক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।