তোশাখানা ‘ভুয়া রসিদ’ মামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে জামিন দিয়েছেন ইসলামাবাদের একটি আদালত। একইসঙ্গে ইমরান খানকে আরও পাঁচটি মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে।
ভুয়া রসিদের অভিযোগ
এফআইআরে অভিযোগ করা হয়, তোশাখানা থেকে নেওয়া উপহার—যেমন ঘড়ি ও কাফলিংকস—বিক্রির ক্ষেত্রে ভুয়া রসিদ উপস্থাপন করে প্রতারণা করেছেন ইমরান খান ও বুশরা বিবি। অভিযোগে বলা হয়, জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব উপহার সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আফজাল মাজুকা পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রসিকিউশন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত ৫০ হাজার রুপি মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আরও পাঁচ মামলায় জামিন
ইমরান খানকে আরও পাঁচটি মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও সেনাবাহিনীকে মানহানির অভিযোগও রয়েছে। এসব মামলাতেও ৫০ হাজার রুপি করে মুচলেকা ধার্য করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীকে মানহানির মামলায় আদালত বলেন, অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত উপাদান উপস্থাপন করা হয়নি।
এফআইআর অনুযায়ী, একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইমরান সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, “তারা তাকে পরাজিত ও হত্যা করতে চায়।” অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করে, এতে সেনা কর্মকর্তাদের মানহানি হয়েছে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

হত্যাচেষ্টা মামলায় পর্যবেক্ষণ
বিক্ষোভ-সংক্রান্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালত উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভ ইমরান খানের নির্দেশে সংগঠিত হয়েছিল—এমন প্রমাণ প্রসিকিউশন দেখাতে পারেনি। এছাড়া ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির বিষয়েও কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ পর্যন্ত একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এসব মামলা দায়ের করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















