ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার পর পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের মধ্যে করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলার সময় মার্কিন মেরিন সদস্যরা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
রবিবার বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়লে সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত হন।
গুলিতে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না স্পষ্ট নয়
মার্কিন কর্মকর্তারা প্রাথমিক তথ্যের বরাতে জানান, মেরিনদের ছোড়া গুলিতে কেউ নিহত বা আহত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত নয়। কনস্যুলেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত অন্য বাহিনী—যেমন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী বা স্থানীয় পুলিশ—গুলিবর্ষণ করেছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এটি প্রথমবারের মতো মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলো যে, ঘটনাটিতে মেরিন সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন।
এক প্রাদেশিক সরকারি মুখপাত্র বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনী” গুলি চালিয়েছে, তবে কারা গুলি করেছে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।
দেশজুড়ে বড় সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় সোমবার পাকিস্তানজুড়ে বড় সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দেশজুড়ে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘ডেথ টু আমেরিকা’ ও ‘ডেথ টু ইসরায়েল’ স্লোগান দেয়। রয়টার্সের সাংবাদিকরা গুলির শব্দ শুনেছেন এবং আশপাশের রাস্তায় টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ হতে দেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত একজন বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি চালাচ্ছে এবং রক্তাক্ত কয়েকজনকে সরে যেতে দেখা যায়।
এক করাচি পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, কনস্যুলেটের ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে।

কূটনৈতিক মিশনে কড়া নিরাপত্তা
মার্কিন দূতাবাস ইসলামাবাদে অবস্থিত। এছাড়া লাহোর ও পেশাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি কনস্যুলেট রয়েছে। করাচির কনস্যুলেটের আশপাশের সড়কগুলোতে কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। লাহোর ও ইসলামাবাদেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় লাহোর ও করাচিতে আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানানো হয়েছে, যদিও দেশজুড়ে জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















