পাকিস্তানে ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। বিদ্যুতের দামে তীব্র বৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর প্রভাবেই এ উল্লম্ফন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বছরওয়ারি ভিত্তিতে ৬.৯৮ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৫.৮ শতাংশ, আর এক বছর আগে ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১.৫ শতাংশ।
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় বড় চাপ
ক্রস-সাবসিডি প্রত্যাহার ও স্থির চার্জ আরোপের ফলে বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের সূচক বছরওয়ারি ৯.৬৫ শতাংশ বেড়েছে এবং মাসিক ভিত্তিতে বেড়েছে ১.৮৬ শতাংশ। শুধু বিদ্যুতের দাম জানুয়ারির তুলনায় ১০.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার
খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির পণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা নগরভিত্তিক মূল মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৭.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৭.২ শতাংশ। গ্রামীণ মূল মূল্যস্ফীতি ৮.৩ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে প্রকৃত সুদের হার ১২০ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১০.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে।
পাইকারি পর্যায়েও চাপ
পাইকারি মূল্যসূচক (ডব্লিউপিআই) ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ছিল ০.২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন পর্যায়ে খরচ বাড়ার এ প্রবণতা ভবিষ্যতে খুচরা বাজারে আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
কোন পণ্যে দাম বেড়েছে
খাদ্য ও অ্যালকোহলবিহীন পানীয় খাতে মূল্যস্ফীতি ৫.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। আবাসন ও ইউটিলিটি খাতে বেড়েছে ৯.৬৫ শতাংশ। বিবিধ পণ্য ও সেবায় মূল্যস্ফীতি ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বছরওয়ারি হিসাবে টমেটোর দাম বেড়েছে ৮২ শতাংশ, গম ৪২.৬ শতাংশ, আটা ২৫.৯ শতাংশ, মাখন ১৬ শতাংশ, তাজা ফল ১৩ শতাংশ। এছাড়া মাংস ১১.৩ শতাংশ, দুধের গুঁড়া ৯.৪ শতাংশ, চাল ৫.৩ শতাংশ এবং ডিম ৫.১৫ শতাংশ বেড়েছে।

যেসব পণ্যে দাম কমেছে
অন্যদিকে আলুর দাম কমেছে ৪০ শতাংশ, মুরগি ২১.৮ শতাংশ, ছোলা ২১.৭ শতাংশ, পেঁয়াজ ১৭ শতাংশ এবং মসুর ডাল ১১ শতাংশ। চা ও তাজা সবজির দামও কমেছে।
অখাদ্য খাতে গ্যাস চার্জ বেড়েছে ২২.৯ শতাংশ, ডাকসেবা ১২.৬ শতাংশ, সংবাদপত্র ১১.৯ শতাংশ, তরল হাইড্রোকার্বন ১১.৬ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ৮.৭৮ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা রুপির ওপর চাপ তৈরি করে মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















