১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
অবিলম্বে ইরাক ছাড়তে বলা হলো মার্কিন নাগরিকদের ইরান যুদ্ধের খবর প্রচারে ‘পক্ষপাত’ অভিযোগ, সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি এফসিসি প্রধানের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রাতের হামলার দায় স্বীকার ইরানপন্থী মিলিশিয়ার জাপানে নতুন রূপে ফিরছে বরই মদ: ঐতিহ্যের স্বাদে আধুনিক উদ্ভাবন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে মেক্সিকো উপসাগরে বড় তেল প্রকল্পে অনুমোদন পেল BP চীনমুক্ত ড্রোনে উড়াল তাইওয়ানের: বৈশ্বিক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা ইরানের হামলায় আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৬ নিহত, ১৪১ জন আহত ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতায় প্রস্তুত ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ ইরানের দাবি: আবুধাবি, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প

মাসের পর মাস গোপন গোয়েন্দা তৎপরতার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুমোদন দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচালিত এ অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক ধাক্কা লাগে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তখনও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।

তবে একই দিন বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে, টেক্সাসগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তিনি সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ট্রাম্প সরাসরি নির্দেশ দেন—“অপারেশন এপিক ফিউরি অনুমোদিত।”

এর পরপরই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান প্রস্তুত, গোলাবারুদ লোড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইরানে অভিযান চলবে চার সপ্তাহ বা তার কম: ট্রাম্প

‘স্থল, আকাশ, সমুদ্র ও সাইবার’—সমন্বিত হামলা

২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে অভিযান শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থল, আকাশ, সমুদ্র ও সাইবার—সব ক্ষেত্রে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া যায়।

হামলার আগে সিআইএ মাসের পর মাস ইরানের শীর্ষ নেতাদের অবস্থান অনুসরণ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের সঙ্গেও ভাগ করা হয় এবং সময় নির্ধারণে সমন্বয় করা হয়।

তেহরানে প্রায় একই সময়ে তিনটি স্থানে হামলা হয়। ইসরায়েলি এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এতে খামেনিসহ প্রায় ৪০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন।

বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তু ও পরবর্তী বার্তা

ট্রাম্প পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, উন্নত গোয়েন্দা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এ অভিযান সফল হয়েছে।

নারীর ভোটাধিকার বিরোধে যাজক, সমর্থনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

১ মার্চ তিনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা কংগ্রেসকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক হামলার প্রস্তুতির তথ্য ছিল না।

‘এটি ইরাক নয়’

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “এটি ইরাক নয়, এটি অন্তহীন যুদ্ধ নয়।” তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে অভিযান কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে এবং স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেননি।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও বাজারে ধাক্কা

হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা একাধিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারও ইরানি যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার দাবি করে।

হরমুজ প্রণালীর কাছে ট্যাঙ্কার চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে যায়। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং মার্কিন ফিউচার সূচকেও পতনের ইঙ্গিত মেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পদক্ষেপটি শুধু ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো নয়, পুরো আঞ্চলিক ভারসাম্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে কেমন  প্রভাব পড়তে পারে? | The Business Standard

জনপ্রিয় সংবাদ

অবিলম্বে ইরাক ছাড়তে বলা হলো মার্কিন নাগরিকদের

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প

০৭:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মাসের পর মাস গোপন গোয়েন্দা তৎপরতার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুমোদন দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচালিত এ অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক ধাক্কা লাগে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তখনও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।

তবে একই দিন বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে, টেক্সাসগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তিনি সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ট্রাম্প সরাসরি নির্দেশ দেন—“অপারেশন এপিক ফিউরি অনুমোদিত।”

এর পরপরই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান প্রস্তুত, গোলাবারুদ লোড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইরানে অভিযান চলবে চার সপ্তাহ বা তার কম: ট্রাম্প

‘স্থল, আকাশ, সমুদ্র ও সাইবার’—সমন্বিত হামলা

২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে অভিযান শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থল, আকাশ, সমুদ্র ও সাইবার—সব ক্ষেত্রে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া যায়।

হামলার আগে সিআইএ মাসের পর মাস ইরানের শীর্ষ নেতাদের অবস্থান অনুসরণ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের সঙ্গেও ভাগ করা হয় এবং সময় নির্ধারণে সমন্বয় করা হয়।

তেহরানে প্রায় একই সময়ে তিনটি স্থানে হামলা হয়। ইসরায়েলি এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এতে খামেনিসহ প্রায় ৪০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন।

বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তু ও পরবর্তী বার্তা

ট্রাম্প পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, উন্নত গোয়েন্দা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এ অভিযান সফল হয়েছে।

নারীর ভোটাধিকার বিরোধে যাজক, সমর্থনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

১ মার্চ তিনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা কংগ্রেসকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক হামলার প্রস্তুতির তথ্য ছিল না।

‘এটি ইরাক নয়’

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “এটি ইরাক নয়, এটি অন্তহীন যুদ্ধ নয়।” তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে অভিযান কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে এবং স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেননি।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও বাজারে ধাক্কা

হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা একাধিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারও ইরানি যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার দাবি করে।

হরমুজ প্রণালীর কাছে ট্যাঙ্কার চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে যায়। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং মার্কিন ফিউচার সূচকেও পতনের ইঙ্গিত মেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পদক্ষেপটি শুধু ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো নয়, পুরো আঞ্চলিক ভারসাম্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে কেমন  প্রভাব পড়তে পারে? | The Business Standard