নারায়ণগঞ্জে চাকরির খোঁজে থাকা এক তরুণীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী তরুণী বন্দরের থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত রহমত মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটে। ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী রাতে বাসায় ফেরার পথে অস্ত্রের মুখে অপহরণের শিকার হন। পরে তাকে একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী ২০২২ সালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার একটি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরিবারের বাড়ি ছেড়ে তিনি সোনারগাঁয়ের কুতুবপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং বিভিন্ন জায়গায় চাকরি খুঁজছিলেন।
অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ
শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কেনাকাটা করতে যান। রাত প্রায় নয়টার দিকে পরিচিত এক রিকশাচালকের রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় রহমত মিয়া রিকশাটি থামিয়ে জোর করে পাশে বসে অস্ত্রের ভয় দেখান।
এরপর তাকে নদী পার করে কুতুবপুর খালপাড় ঘাট দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
পরদিন সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়।

হুমকি ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পর অভিযুক্ত বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে এবং আবার দেখা করার জন্য চাপ দেয়। সোমবার রাতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মদনপুর এলাকায় অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
বন্দরের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















