০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
আমেরিকার নতুন কৌশল, আসিয়ানের কঠিন ভারসাম্য সাগরে ৩৬ দিন ধরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করল বাংলাদেশি জেলেরা মারধরের পর ছাত্রলীগ পরিচয়ে কারাগারে, যা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ব্যাংকে অবরুদ্ধ পাটওয়ারী ও সারজিস সন্তানহীন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহর, কমছে শিশুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ট্রাম্প প্রশাসন হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি ২১ বছর বয়সেই সাহিত্যজগতে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেট ইস্টন এলিস, ‘লেস দ্যান জিরো’ নিয়ে মুখ খুললেন ত্বকের যত্নে নতুন চমক, একসঙ্গে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা দেবে টোনার প্যাড এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

ডিজিটাল যুগে পাকিস্তানের সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত, তবু রয়ে গেছে স্বীকৃতির সংকট

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে পাকিস্তানের সঙ্গীতজগৎ নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে, তবে শিল্প হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি না পাওয়ায় এখনো নানা কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি এই খাত। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা বিশ্লেষণে সঙ্গীতশিল্পী বিলাল মাকসুদ মনে করেন, প্রতিভার ঘাটতি নয়, বরং সিস্টেমের দুর্বলতাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন সুযোগ

বর্তমান সময়ে ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। আগে যেখানে টেলিভিশন বা রেকর্ড লেবেলের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন যে কেউ নিজের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে বিশ্বমঞ্চে। ফলে তরুণদের জন্য সঙ্গীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে।

প্রতিভা আছে, কাঠামো দুর্বল

পাকিস্তানের গায়করা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও তাদের কণ্ঠের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে প্রতিভা কোনো বাধা নয়। তবে ভারতের মতো বড় পরিসরের ইন্ডাস্ট্রি কাঠামো পাকিস্তানে গড়ে ওঠেনি। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই শিল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

পেশা হিসেবে অনিশ্চয়তা

সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো অনিশ্চয়তা। অন্যান্য পেশার মতো এখানে নির্দিষ্ট ক্যারিয়ার পথ নেই। ফলে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের এই পথে উৎসাহ দিতে দ্বিধায় ভোগেন। যদিও দক্ষতা থাকলে সফলতা সম্ভব, তবুও স্থায়ী কাঠামো না থাকায় ঝুঁকি থেকেই যায়।

Don’t stop the music

শিল্প হিসেবে স্বীকৃতির অভাব

দেশে চলচ্চিত্র শিল্পের মতো সঙ্গীত এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। সরকারি নীতিমালায় সঙ্গীতের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা শক্তিশালী রয়্যালটি ব্যবস্থা নেই। অথচ জাতীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে সঙ্গীত অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা আছে, সুযোগ কম

কারাচিতে ন্যাশনাল একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। এই ব্যবধানই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

একক শিল্পীর উত্থান

বর্তমান সময়ে ব্যান্ডের তুলনায় একক শিল্পীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচিতি গড়ে তোলা সহজ হওয়ায় এই প্রবণতা বাড়ছে। তবে এর পেছনে এখনও অনেক দক্ষ সঙ্গীতশিল্পী কাজ করছেন, যাদের অবদান অনেক সময় চোখে পড়ে না।

ভবিষ্যতের পথে কী প্রয়োজন

সঙ্গীত খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সরকারি স্বীকৃতি, শক্তিশালী নীতিমালা এবং কার্যকর রয়্যালটি ব্যবস্থা। এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে শিল্পীরা শুধু সাংস্কৃতিক অবদানই রাখবেন না, বরং টেকসই পেশাগত জীবনও গড়ে তুলতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার নতুন কৌশল, আসিয়ানের কঠিন ভারসাম্য

ডিজিটাল যুগে পাকিস্তানের সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত, তবু রয়ে গেছে স্বীকৃতির সংকট

০৬:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে পাকিস্তানের সঙ্গীতজগৎ নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে, তবে শিল্প হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি না পাওয়ায় এখনো নানা কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি এই খাত। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা বিশ্লেষণে সঙ্গীতশিল্পী বিলাল মাকসুদ মনে করেন, প্রতিভার ঘাটতি নয়, বরং সিস্টেমের দুর্বলতাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন সুযোগ

বর্তমান সময়ে ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। আগে যেখানে টেলিভিশন বা রেকর্ড লেবেলের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন যে কেউ নিজের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে বিশ্বমঞ্চে। ফলে তরুণদের জন্য সঙ্গীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে।

প্রতিভা আছে, কাঠামো দুর্বল

পাকিস্তানের গায়করা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও তাদের কণ্ঠের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে প্রতিভা কোনো বাধা নয়। তবে ভারতের মতো বড় পরিসরের ইন্ডাস্ট্রি কাঠামো পাকিস্তানে গড়ে ওঠেনি। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই শিল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

পেশা হিসেবে অনিশ্চয়তা

সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো অনিশ্চয়তা। অন্যান্য পেশার মতো এখানে নির্দিষ্ট ক্যারিয়ার পথ নেই। ফলে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের এই পথে উৎসাহ দিতে দ্বিধায় ভোগেন। যদিও দক্ষতা থাকলে সফলতা সম্ভব, তবুও স্থায়ী কাঠামো না থাকায় ঝুঁকি থেকেই যায়।

Don’t stop the music

শিল্প হিসেবে স্বীকৃতির অভাব

দেশে চলচ্চিত্র শিল্পের মতো সঙ্গীত এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। সরকারি নীতিমালায় সঙ্গীতের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা শক্তিশালী রয়্যালটি ব্যবস্থা নেই। অথচ জাতীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে সঙ্গীত অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা আছে, সুযোগ কম

কারাচিতে ন্যাশনাল একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। এই ব্যবধানই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

একক শিল্পীর উত্থান

বর্তমান সময়ে ব্যান্ডের তুলনায় একক শিল্পীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচিতি গড়ে তোলা সহজ হওয়ায় এই প্রবণতা বাড়ছে। তবে এর পেছনে এখনও অনেক দক্ষ সঙ্গীতশিল্পী কাজ করছেন, যাদের অবদান অনেক সময় চোখে পড়ে না।

ভবিষ্যতের পথে কী প্রয়োজন

সঙ্গীত খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সরকারি স্বীকৃতি, শক্তিশালী নীতিমালা এবং কার্যকর রয়্যালটি ব্যবস্থা। এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে শিল্পীরা শুধু সাংস্কৃতিক অবদানই রাখবেন না, বরং টেকসই পেশাগত জীবনও গড়ে তুলতে পারবেন।