মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের খরচ হঠাৎ করেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সুপার ট্যাঙ্কারগুলোর ভাড়া এত দ্রুত বেড়েছে যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরান প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার পর বহু তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের খরচ দ্রুত বাড়ছে এবং বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির
ইরান ও ওমানের মাঝের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এই পথ দিয়ে যায়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই পথ দিয়ে চলা বেশ কয়েকটি জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ এই পথে চলাচল বন্ধ বা স্থগিত করেছে।
ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তেল পরিবহনের ভাড়া রেকর্ড উচ্চতায়
মধ্যপ্রাচ্য থেকে পূর্ব এশিয়ায় তেল বহনকারী বৃহৎ ট্যাঙ্কারের ভাড়া এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহন করতে সক্ষম বিশাল জাহাজগুলোর দৈনিক ভাড়া কয়েক লাখ ডলারের সমতুল্য পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ছয় বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এবার তা নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক জাহাজ মালিক কার্যক্রম স্থগিত করায় বাজারে জাহাজের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে অবশিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা বেড়ে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে।

গ্যাস পরিবহনেও তীব্র চাপ
শুধু তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারের ভাড়াও হঠাৎ বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহেই এই ভাড়া আরও বাড়তে পারে। কারণ মার্চ মাসজুড়ে জাহাজের সরবরাহ সীমিত থাকায় পরিবহন বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি দামের চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে একাধিক স্থানে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। কারণ এই পথটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী।
জাহাজ চলাচলে সতর্কতা
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের সরকার তাদের জাহাজ মালিকদের মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত রাখতে সতর্ক করেছে।
অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প রুট ও বন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন চালানো সহজ নয়।
এ কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















