মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দেশে জ্বালানি সংকট বা দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও আপাতত নেই।
দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিপিসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মার্চ মাসের জন্য ইতিমধ্যে ১৫টি জ্বালানি চালানের জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এপ্রিল মাসেও আরও ১৫টি চালান নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটির মূল্য ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে জ্বালানি ঘাটতির কোনো কারণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের, অকটেন ২৮ দিনের, পেট্রোল ১৫ দিনের, ফার্নেস তেল ৯৩ দিনের এবং উড়োজাহাজ জ্বালানি ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতির নজরদারি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, মার্চের ১ তারিখে একটি অপরিশোধিত তেলের চালান জাহাজে তোলা হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি হয়ে দেশে আসার কথা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এটি যাত্রা শুরু করবে।
এছাড়া মার্চের ২২ তারিখে আরেকটি চালান জাহাজে তোলার কথা রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপিসিকে জানিয়েছে যে আপাতত সরবরাহে কোনো বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বিকল্প উৎস খোঁজার উদ্যোগ
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিপিসি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে জানান রেজানুর রহমান। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থাও করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সরকার সর্বশেষ গত ১ মার্চ জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছিল। মার্চ মাসের জন্য খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















